সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের নিয়মিত দরবারে বাহিনীর সদস্যদের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ২ অক্টোবর ২০২৬-কে কেন্দ্র করে প্রচারিত ওই দাবিতে বলা হয়েছে, পাঁচটি প্রশ্নের কোনোটিরই তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট উত্তর দেওয়া হয়নি এবং বিষয়গুলো নিয়ে সময় নিয়ে পুনরায় দরবার করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
তবে প্রকাশ্য সরকারি/সেনাবাহিনী-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নিয়মিত দরবারে সেনাপ্রধান সেনাসদস্যদের পেশাগত দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে নির্দেশনা দেন। দরবারে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সার্বিক অগ্রযাত্রায় সরকারের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করা হয়।
প্রচারিত দাবিতে সেনাসদস্যদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত পাঁচটি প্রশ্নের মধ্যে ছিল—
প্রথম প্রশ্ন, বর্তমানে কয়েকজন সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইসিটিতে বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ। সরকারি আদেশ পালন করার পরও তাঁদের বিচারের মুখোমুখি হতে হলে ভবিষ্যতে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সেনাসদস্যদের অবস্থান কী হবে—এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
দ্বিতীয় প্রশ্ন, ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর মতো কোনো কার্যক্রমে সেনাবাহিনীকে যুক্ত করা হলে বাহিনীর রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা বাড়তে পারে এবং নিরীহ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে কি না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে বাহিনীর ভবিষ্যৎ ভূমিকা কী হবে, সেটিও জানতে চাওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
তৃতীয় প্রশ্ন, দীর্ঘ সময় ধরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন থেকে বাংলাদেশি সেনাসদস্যদের নিয়োগসংক্রান্ত কোনো আহ্বান না আসার বিষয়টি। এর ফলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশি সেনা সদস্যদের অংশগ্রহণ স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়ার কোনো আশঙ্কা আছে কি না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
চতুর্থ প্রশ্ন, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের পুনরায় নিয়োগের বিষয়টি। এ ধরনের নিয়োগ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে সেনাবাহিনীর চেইন অব কমান্ড বা পদোন্নতির কাঠামোয় কোনো প্রভাব পড়বে কি না—এ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
পঞ্চম প্রশ্ন, সেনাবাহিনীতে ধর্মীয় চর্চা বা ‘ইসলামাইজেশন’ নিয়ে। এ ধরনের কোনো নীতি বা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকলে সেটি কার সিদ্ধান্ত এবং তা সেনাপ্রধানের একক সিদ্ধান্ত, নাকি সম্মিলিত সিদ্ধান্ত—এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে বলে প্রচারিত দাবিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
দাবি অনুযায়ী, সেনাপ্রধান তাৎক্ষণিকভাবে এসব প্রশ্নের বিস্তারিত জবাব না দিয়ে বিষয়গুলো নিয়ে সময় নিয়ে পুনরায় দরবার করার কথা বলেছেন।
তবে এসব প্রশ্ন উত্থাপন এবং সেনাপ্রধানের কথিত জবাবের বিষয়ে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্য সরকারি বিবৃতিতে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়গুলোকে আপাতত প্রচারিত দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। প্রকাশ্য প্রতিবেদনে ১ অক্টোবরের দরবারে সেনাপ্রধানের দেওয়া নির্দেশনার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে, কিন্তু উল্লিখিত পাঁচ প্রশ্নের বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।





