ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, মহাত্মা গান্ধীর অহিংসা, শান্তি ও ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা বর্তমান বিশ্বে আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। বিশ্বজুড়ে সহিংসতা বাড়ার প্রেক্ষাপটে গান্ধীর এই বার্তা আরও বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনে মহাত্মা গান্ধী ও ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর ১৫৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন।
দিনেশ ত্রিবেদী বলেন, মহাত্মা গান্ধী সব মানুষ ও সব ধর্মের জন্য শান্তির প্রতীক ছিলেন। তার অহিংসার দর্শন আজও বিশ্বে শান্তি ও সম্প্রীতির পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি বলেন, গান্ধীর জীবন ও দর্শন নিয়ে যত আলোচনা করা হোক, তা শেষ করার মতো নয়। তার মতো স্বচ্ছ ও সরল জীবনযাপনকারী মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। ‘যত মত, তত পথ’—এই বিশ্বাস ধারণ করে তিনি মানুষের মধ্যে সহাবস্থান ও সম্প্রীতির বার্তা দিয়েছেন।
ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, গান্ধীর জীবন ছিল সাধারণ, কিন্তু তার আদর্শ ছিল অসাধারণ। তার চিন্তা ও দর্শন ব্যক্তিজীবন এবং সমাজে প্রয়োগ করা গেলে মানুষ ও সমাজ আরও এগিয়ে যেতে পারে।
লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর প্রসঙ্গ তুলে দিনেশ ত্রিবেদী বলেন, ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ‘জয় জওয়ান, জয় কিষান’ স্লোগানের মাধ্যমে দেশ ও মানুষের প্রতি দায়িত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন। বর্তমান সময়ে এর সঙ্গে ‘জয় বিজ্ঞান, জয় অনুসন্ধান’ যুক্ত করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, বহু বছর পরও মহাত্মা গান্ধী বিশ্বের মানুষের কাছে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার একজন ব্যক্তিত্ব। মানবতার কল্যাণে তার দেওয়া শান্তি, অহিংসা ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা সবসময়ই প্রাসঙ্গিক থাকবে।
অনুষ্ঠানের আলোচনা পর্ব শেষে মহাত্মা গান্ধীর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যাশন শোর আয়োজন করা হয়।
এদিকে গান্ধীর ১৫৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন এবং চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট ও রাজশাহীর সহকারী হাইকমিশনগুলো বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে।
ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের উদ্যোগে ১৮ থেকে ২৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য পোস্টার তৈরি ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। চট্টগ্রাম সহকারী হাইকমিশনের উদ্যোগে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়।
এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে সেবামূলক ও সচেতনতামূলক নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মহাত্মা গান্ধীর জন্মজয়ন্তী পালন করা হয়।





