পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা কাটিয়ে রাশিয়া থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ইউরেনিয়ামের নতুন চালান বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত ১১টা ৪৩ মিনিটে একটি বিশেষ কার্গো উড়োজাহাজে করে ইউরেনিয়ামের চালানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শনিবার (৩ অক্টোবর) কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বিমানবন্দর থেকে ইউরেনিয়ামের চালান রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প এলাকায় নেওয়ার কথা রয়েছে।
আকাশসীমার অনুমতি না পাওয়ায় ফ্লাইট বাতিল
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়ামবাহী উড়োজাহাজটি বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ফ্লাইটটি বাতিল করা হয়।
পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের ওই ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছিল বলে জানা গেছে। পরে প্রয়োজনীয় জটিলতা কাটিয়ে নতুন সূচিতে ইউরেনিয়ামের চালান বাংলাদেশে পৌঁছায়।
মোট ৯ চালানে আসবে পারমাণবিক জ্বালানি
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি চালানে এবং প্রথম ইউনিটের রিফুয়েলিংয়ের জন্য আরও দুটি চালানে ইউরেনিয়াম দেশে আনা হবে।
সব মিলিয়ে মোট নয়টি চালানে পারমাণবিক জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো সরবরাহ প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ রূপপুরের প্রথম ইউনিটের ইউরেনিয়ামবাহী বিমান ঢাকায়, নিরাপত্তায় যাবে বিদ্যুৎকেন্দ্রে – দ্যা নিউজ
রাশিয়ার সহযোগিতায় রূপপুরের দুটি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় পারমাণবিক জ্বালানি পর্যায়ক্রমে দেশে আনা হচ্ছে। প্রতিটি চালান নির্ধারিত নিরাপত্তাব্যবস্থা অনুসরণ করে প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হবে।
ডিসেম্বরে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে বিদ্যুৎ
প্রকল্পের নির্মাণ ও প্রস্তুতিমূলক কাজ নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে ২০০ থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে।
এর মধ্য দিয়ে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়া আরও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য রাশিয়ার সহযোগিতায় পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। ইউরেনিয়ামের চালানগুলো পর্যায়ক্রমে দেশে পৌঁছানোর পর নির্ধারিত নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করে প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হবে।





