সাম্প্রদায়িকতা হলো ভারতবর্ষের সবচেয়ে সর্বনাশা আদর্শ -ফজলুর রহমান

সাম্প্রদায়িকতা হলো ভারতবর্ষের সবচেয়ে সর্বনাশা আদর্শ -ফজলুর রহমান
সাম্প্রদায়িকতা হলো ভারতবর্ষের সবচেয়ে সর্বনাশা আদর্শ

সাম্প্রদায়িকতা হলো ভারতবর্ষের সবচেয়ে সর্বনাশা আদর্শ। এই আদর্শকে যতদিন পর্যন্ত না পরাজিত করা যাবে, ততদিন পর্যন্ত মনুষ্যত্ব আসবে না। তাই একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্র ফোরাম আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফজলুর রহমান বলেন, কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার সাহিত্য ও দর্শনে বারবার অসাম্প্রদায়িকতার কথা বলেছেন। তার মতে, নজরুলের অসাম্প্রদায়িক চেতনার সঙ্গে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শেরও সম্পর্ক রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুনঃ সরকারি চাকরিতে অনাকাঙ্ক্ষিত তদবির হলেই বিভাগীয় ব্যবস্থা

নজরুলের মানবিক ও সত্যনিষ্ঠ চেতনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তার আদর্শ ও চিন্তার কারণে কবি মৃত্যুর পরও মানুষের মধ্যে দীর্ঘকাল বেঁচে থাকবেন।

ফজলুর রহমান বলেন, মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর পারিবারিক শিকড় ছিল গুজরাটে। জিন্নাহর বাবা মাছের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তাদের পরিবারকে ‘পুঞ্জা’ নামে অভিহিত করা হতো। তিনি আরও দাবি করেন, পরিবারটি একসময় হিন্দু ছিল এবং পরবর্তীতে মুসলমান ধর্ম গ্রহণ করে। তবে ঐতিহাসিক সূত্রে জিন্নাহর পিতা জিন্নাহভাই পুঞ্জা এবং পরিবারের গুজরাটের কাঠিয়াওয়ার অঞ্চলের প্যানেলি গ্রামের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য পাওয়া যায়। গবেষণামূলক ও জীবনীভিত্তিক সূত্রগুলোতে তার পরিবারের ব্যবসায়িক পটভূমির কথাও উল্লেখ রয়েছে।

নবীন শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের আহ্বান জানিয়ে ফজলুর রহমান বলেন, শুধু পোশাক কিংবা বাহ্যিক পরিচয় দিয়ে মানুষের জ্ঞান বা যোগ্যতা নির্ধারণ করা যায় না। পাঞ্জাবি, পায়জামা ও টুপি পরলেই কেউ আলেম হয়ে যায় না; আলেম হতে হলে জ্ঞান অর্জন করতে হয়।

তিনি আরও বলেন, দেশে ধর্মকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের প্রচার ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড রয়েছে। রাজনীতি, ধর্ম এবং ধর্মব্যবসা এক বিষয় নয় উল্লেখ করে শিক্ষার্থীদের সত্য বলা, ন্যায়ের পথে চলা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ অনুসরণের আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুনঃ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির প্রথম এলএনজি কার্গো বাংলাদেশে

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার খন্দকার নাজমুল হাসান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী উম্মে কুলসুম বেগম, কিশোরগঞ্জ জেলা পাবলিক কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম, শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদস্য সচিব মামুন সরকার।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলফারুন নাহার রুমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক মো. নিজাম উদ্দিন।

নবীনবরণ অনুষ্ঠান শেষে রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জয়ধ্বনি মঞ্চে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

ডেস্ক

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।