সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে প্রেমের সম্পর্কের জেরে এক তরুণ-তরুণীর বাড়ি ছেড়ে বিয়ে করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের মাটিয়াপুর ও হলিমপুর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাটিয়াপুর গ্রামের এক তরুণের সঙ্গে হলিমপুর গ্রামের এক তরুণীর দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মঙ্গলবার রাতে ওই তরুণের সঙ্গে বাড়ি ছাড়েন তরুণী। পরে কাজির মাধ্যমে ধর্মীয় বিধান অনুসরণ করে তাঁরা বিয়ে করেন।
এ ঘটনায় তরুণীর পরিবারের অভিযোগ, তাঁদের মেয়েকে প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ি থেকে নিয়ে গেছেন ওই তরুণ। তবে তরুণের পরিবারের দাবি, কোনো জোরজবরদস্তি বা প্রলোভনের ঘটনা ঘটেনি। দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের ভিত্তিতে নিজের সিদ্ধান্তেই তরুণের সঙ্গে চলে গেছেন তরুণী।
বিয়ের বিষয়টি জানানো এবং দুই পরিবারের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করতে মঙ্গলবার রাতে তরুণের পরিবারের কয়েকজন সদস্য তরুণীর বাড়িতে যান। সেখানে উভয়পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তরুণীর পরিবারের লোকজন তরুণের আত্মীয়-স্বজনদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার দুপুরে দুই গ্রামের বাসিন্দারা দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে দিরাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।





