বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী অনির্ধারিত সফরে দিল্লি গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
দুই দেশের সম্পর্ক, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঢাকার অবস্থান জানাতেই তার এই সফর বলে কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে বিবিসি।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) স্থানীয় সময় দুপুর ১টার দিকে দিল্লিতে মোদির সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সোমবার (৫ অক্টোবর) রাতে তিনি ঢাকা থেকে বিমানে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন।
দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলো বিবিসিকে জানিয়েছে, তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর এবং দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে বার্তা দিতেই দীনেশ ত্রিবেদীর দিল্লি সফর।
তবে তার আকস্মিক সফর ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশন, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কার্যালয় থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের ৫৫ বছরের ইতিহাসে দীনেশ ত্রিবেদী প্রথম ভারতীয় রাষ্ট্রদূত, যিনি রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ পাওয়া ‘পলিটিক্যাল অ্যাপয়েন্টি’। তার নিয়োগও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় চূড়ান্ত করেছে।
এ কারণে দিল্লি সফরের সময় তিনি সাধারণত সরাসরি প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। অন্য পেশাদার কূটনীতিকদের মতো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়ে রিপোর্ট করার প্রচলিত প্রক্রিয়া তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এবারের সফরেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে আলোচনা অনেকটা এগিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই সফর এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
এদিকে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য ঢাকার দাবিও দীর্ঘদিন ধরে দিল্লির বিবেচনায় ঝুলে আছে। বিষয়টি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে অন্যতম অস্বস্তির কারণ হয়ে রয়েছে।
অন্যদিকে, গঙ্গা চুক্তির নবায়ন নিয়েও দুই দেশের সরকারের মধ্যে আলোচনায় দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। ৩০ বছর মেয়াদি গুরুত্বপূর্ণ এই পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরেই শেষ হওয়ার কথা।
সূত্র: বিবিসি





