খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, ধর্মের নামে বিভেদ ও সাম্প্রদায়িকতার কোনো স্থান বাংলাদেশে নেই। একই সঙ্গে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদ যাতে আর ফিরে আসতে না পারে, সে জন্য সামাজিকভাবে সচেতনতা ও আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
বুধবার দুপুরে বঙ্গভবনে ঢাকা ক্যাথলিক আর্চডায়োসিসের সহকারী বিশপ সুব্রত বনিফাস গমেজের নেতৃত্বে ২৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাসসকে এ তথ্য জানান।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদল খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বিভিন্ন বিষয় রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা কামনা করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ সব নাগরিকের দেশ এবং এখানে প্রত্যেকের সমান অধিকার রয়েছে। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক যেন বঞ্চনা বা বৈষম্যের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সমাজসেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। হলিক্রস, সেন্ট গ্রেগরিজ, সেন্ট যোসেফ ও নটরডেমের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দেশের শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ গঠনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে।
প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, ভূমি ও সম্পদসহ বিভিন্ন বিষয়ে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের যৌক্তিক সমস্যাগুলো যথাযথভাবে তুলে ধরতে নেতৃবৃন্দকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখার আশ্বাসও দেন তিনি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও ধর্মীয় সম্প্রীতির যে দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে, তা অক্ষুণ্ন রাখতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, রাষ্ট্রপতির ভবনের দরজা দেশের সব নাগরিকের জন্য সবসময় উন্মুক্ত। খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের যেকোনো যৌক্তিক সমস্যা ও বিষয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আন্না মিনজ, নটরডেম কলেজের প্রিন্সিপাল ফাদার হেমন্ত রোজারিও, সিএসসি, নটরডেম ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর ফাদার চার্লস, হলিক্রস কলেজের প্রিন্সিপাল সিস্টার শিখা গমেজ, সিএসসি এবং খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জন গমেজ।
এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।





