ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এ মাছের টেকসই সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে শনিবার (৩১ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে সাগর ও নদীতে জাটকা আহরণে ৮ মাসের নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে। আগামী ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং মৎস্য অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে এ কর্মসূচি পরিচালিত হবে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে ২৫ সেন্টিমিটারের কম দৈর্ঘ্যের ইলিশ বা জাটকা আহরণ, পরিবহণ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও মজুত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
মৎস্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এর আগে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় গত ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬’ পরিচালনা করা হয়।
ওই সময়ে ডিমওয়ালা ইলিশ থেকে উৎপন্ন পোনা উপকূলীয় নদ-নদী ও মোহনায় বিচরণ করছে। জন্মের পরবর্তী ৫ থেকে ৮ মাস এসব পোনা নদী ও মোহনা এলাকায় বেড়ে ওঠে। এ সময় জাটকা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। পোনাগুলো নিরাপদে বড় হওয়ার সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে দেশে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে এবং এ সম্পদের স্থায়িত্ব নিশ্চিত হবে।
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে ২ বছরের কারাদণ্ড
জাটকা সংরক্ষণে জারি করা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ (সংশোধিত) অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ বিধিমালা, ১৯৮৫ অনুযায়ী, আইন লঙ্ঘনকারীর অনধিক দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মাঠে থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
সারাদেশে জাটকা আহরণ বন্ধে কঠোর নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করবে মৎস্য অধিদপ্তর। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) এবং স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো সহযোগিতা করবে।
ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি, জাটকার নিরাপদ বিচরণ এবং দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে নির্ধারিত আট মাস নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে মৎস্য অধিদপ্তর।





