দক্ষ ও সংগঠিত যুবসমাজই দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ: রাষ্ট্রপতি

দক্ষ ও সংগঠিত যুবসমাজই দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ: রাষ্ট্রপতি
দক্ষ ও সংগঠিত যুবসমাজই দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ: রাষ্ট্রপতি

সংগঠিত, দক্ষ ও দায়িত্বশীল যুবসমাজকে দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তরুণদের মানসম্মত শিক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা এবং টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

১ নভেম্বর জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে শনিবার (৩১ অক্টোবর) দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, যুবসমাজ একটি দেশের প্রাণশক্তি। জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিও তরুণ প্রজন্ম।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক অর্জনগুলোতে তরুণদের অবদান অনস্বীকার্য। ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের দশকের গণ-অভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে যুবসমাজ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।

তিনি বলেন, তরুণদের দক্ষ ও উৎপাদনশীল মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হলে স্বনির্ভর, উন্নত ও আধুনিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অগ্রযাত্রা আরও গতিশীল হবে।

এ বছরের জাতীয় যুব দিবসের প্রতিপাদ্য ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ সময়োপযোগী উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের জনসংখ্যার বড় একটি অংশ তরুণ। এই বিশাল জনগোষ্ঠীই বাংলাদেশের সম্ভাবনার অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং ২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে তরুণ জনগোষ্ঠীর এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, এ জন্য কর্মসংস্থান উপযোগী মানসম্মত শিক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা এবং টেকসই কাজের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি স্মরণ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যুবসমাজকে উৎপাদনশীল জনশক্তিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে সমন্বিত পরিকল্পনা ও কর্মসূচির ভিত্তি তৈরি করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেই উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, যুব উন্নয়ন কার্যক্রমকে আধুনিক ও কার্যকর করতে বর্তমান সরকার সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অংশীজনকে যুক্ত করে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

এর অংশ হিসেবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কৃষি, হস্তশিল্প, কারিগরি শিক্ষা, ফ্রিল্যান্সিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব উদ্যোগ তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠা এবং আত্মনির্ভরশীল নাগরিক হতে সহায়তা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সুস্থ ও সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠায় যুবসমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি। মাদকাসক্তি প্রতিরোধ, পরিবেশ রক্ষা, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধ এবং সামাজিক অবক্ষয় রোধে তরুণদের সামাজিক আন্দোলন ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

যুবসমাজের সার্বিক উন্নয়ন ও কল্যাণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে সরকার, বেসরকারি খাত, সামাজিক সংগঠন, বিত্তবান ব্যক্তি এবং পরিবারগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

তিনি বলেন, তরুণদের জন্য সম্মানজনক কর্মসংস্থান এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাকে সবার সম্মিলিত অঙ্গীকার হিসেবে নিতে হবে।

সবশেষে জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন রাষ্ট্রপতি।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

নিজস্ব প্রতিবেদক

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।