নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি সেবা ও প্রযুক্তিকে ডিজিটাল করার মধ্যেই ডিজিটাল রূপান্তরের লক্ষ্য সীমাবদ্ধ নয়। বরং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়, দক্ষতা ও জবাবদিহি বাড়িয়ে নাগরিকদের আরও উন্নত সেবা দেওয়াই এর মূল উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
আজ রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে ‘E-ffective e-governance: Accelerating e-government and digital public services in Bangladesh’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আলাদা ডিজিটাল ব্যবস্থা থাকলেই ডিজিটাল সরকার নয়
মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে আলাদা আলাদা ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করলেই একটি কার্যকর ডিজিটাল সরকার প্রতিষ্ঠা হয় না। একই ধরনের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বারবার তৈরি করার পরিবর্তে Common Capability, Interoperability এবং National Data Exchange ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।
আরও পড়ুনঃ জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা চান পানিসম্পদমন্ত্রী
এর মাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয় বাড়ানোর পাশাপাশি নাগরিকসেবাকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, একজন নাগরিকের কাছে সরকার আলাদা কোনো মন্ত্রণালয়, প্রতিষ্ঠান বা ডাটাবেজের সমষ্টি নয়। নাগরিকের কাছে সরকার একটি সমন্বিত সেবা ব্যবস্থা। তাই সরকারি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ব্যবস্থাগুলোকে একটি Connected Ecosystem হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।
পাঁচ অগ্রাধিকার নিয়ে কাজ করবে সরকার
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইটি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ আগামী পাঁচ বছরের জন্য সরকারের প্রযুক্তি খাতের অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরেন।
আরও পড়ুনঃ ৪২ বছর পর বদলাচ্ছে বিমান চলাচল বিধিমালা, বিনিয়োগ ও যাত্রীসেবায় গুরুত্ব
তিনি বলেন, আইন ও নীতিমালা, নিরাপদ কানেক্টিভিটি, Digital Public Infrastructure (DPI), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবার নিরাপত্তা, দক্ষ মানবসম্পদ এবং ইলেকট্রনিক্স ম্যানুফ্যাকচারিং—এই বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার কাজ করবে।
AI-কে বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে সরকার
রেহান আসিফ আসাদ বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI বাংলাদেশের জন্য বড় সম্ভাবনার ক্ষেত্র। শক্তিশালী ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার, নিরাপদ ডেটা এক্সচেঞ্জ এবং উন্মুক্ত API নিশ্চিত করার মাধ্যমে তরুণদের প্রযুক্তি উদ্ভাবনে আরও বেশি সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, স্টার্টআপ খাতকে এগিয়ে নিতে প্রতি বছর ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সেমিনারে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা
সেমিনারে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার সচিব ফারাহ শাম্মী এনডিসি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।





