সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় কমিউনিটির অংশগ্রহণ জরুরি: সংস্কৃতিমন্ত্রী

সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় কমিউনিটির অংশগ্রহণ জরুরি: সংস্কৃতিমন্ত্রী
সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় কমিউনিটির অংশগ্রহণ জরুরি: সংস্কৃতিমন্ত্রী

বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে তা পৌঁছে দিতে স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও কমিউনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

তিনি বলেন, একটি দেশের সংস্কৃতি শুধু ঐতিহাসিক স্থাপনা কিংবা প্রত্নসম্পদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের জীবনধারা, লোকাচার, উৎসব, সংগীত, নৃত্য, কারুশিল্প ও প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা লোকজ জ্ঞানেও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রকাশ ঘটে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ‘International Seminar on Community Based Safeguarding and Knowledge Exchange for Cultural Heritage’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, বৈচিত্র্যের মধ্যেই বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক শক্তি নিহিত। পাহাড়ি ও সমতলের বিভিন্ন জনগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের জীবনযাপন, আচার-অনুষ্ঠান এবং উৎসবে নানা বৈচিত্র্য থাকলেও জাতীয় পরিচয় ও দেশপ্রেমের জায়গায় সবাই এক।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য দীর্ঘ হাজার বছরের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ। দেশের বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পালন করে আসছেন। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতির এই চর্চা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, লোকজ উৎসব, নৌকাবাইচ, লোকসংগীত ও লোকনৃত্যের মতো মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত সাংস্কৃতিক আয়োজন সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করার পাশাপাশি মানুষের মধ্যে আনন্দ ও সম্প্রীতি বাড়ায়। নৌকাবাইচসহ ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন আয়োজন দেশের আরও বেশি এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

তরুণ প্রজন্মকে দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, খেলাধুলা, লোকজ উৎসব এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তরুণদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো গেলে তাদের সৃজনশীলতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ বাড়বে। একই সঙ্গে মাদকসহ বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে তরুণদের দূরে রাখতেও এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

নারীর অংশগ্রহণ ও মর্যাদা প্রসঙ্গে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, সমাজ ও সংস্কৃতির বিকাশে নারীর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নারীর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি নারীশক্তির বিকাশে সরকার কাজ করছে। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও নারীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, কমিউনিটিভিত্তিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে স্থানীয় মানুষের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘদিনের চর্চাকে গুরুত্ব দিতে হবে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সঙ্গে নিয়ে ঐতিহ্য শনাক্ত, নথিবদ্ধ, চর্চা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে হস্তান্তর করা গেলে সংরক্ষণ কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাবের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম ও ইউনেস্কোর প্রতিনিধি। অনুষ্ঠানে জাতীয় জাদুঘর ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, গবেষক এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনার শেষে মন্ত্রী হাজং ও মণিপুরি সম্প্রদায়ের শিল্পীদের পরিবেশিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

নিজস্ব প্রতিবেদক

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।