অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ সমাজ প্রতিষ্ঠায় ক্রাইম রিপোর্টারদের আরও দায়িত্বশীল, বস্তুনিষ্ঠ ও অনুসন্ধানী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আজ রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব)-এর ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানের খবরটি আজকের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ সমাজ গঠনে অনুসন্ধানী সাংবাদিক তথা ক্রাইম রিপোর্টারদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময়ের সঙ্গে অপরাধের ধরন পরিবর্তিত হয়ে এখন প্রযুক্তিনির্ভর ও ডিজিটাল রূপ নিয়েছে। এ বাস্তবতায় অপরাধ প্রতিরোধে আধুনিক আইনকাঠামোর পাশাপাশি গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল এবং তথ্যনির্ভর ভূমিকা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, অপরাধ, অপরাধী, অপরাধবিজ্ঞান, পুলিশ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পরস্পরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে তথ্য প্রদান এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শের ক্ষেত্রে ক্র্যাবের মতো ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের ভূমিকা রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ভূমি অফিসে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চালু হচ্ছে ‘ভূমিদৃষ্টি’ অ্যাপ
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ৩১৮ জন পেশাদার সদস্য নিয়ে ৪৩ বছরের পথচলায় ক্র্যাব অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় একটি অবস্থান তৈরি করেছে। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা জ্ঞানভিত্তিক একটি বিশেষায়িত ক্ষেত্র, যেখানে বিষয়ভিত্তিক পড়াশোনা, তথ্য সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণী দক্ষতা প্রয়োজন।
অপরাধের কারণ অনুসন্ধানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, শুধু অপরাধীকে শাস্তি দিলেই অপরাধ কমানো সম্ভব নয়। কেন অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, সেই কারণ চিহ্নিত করে অপরাধের উৎসে ব্যবস্থা নিতে হবে। বিভিন্ন অপরাধ বিশ্লেষণে মাদক ও জুয়া গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানী ভূমিকার গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ক্রাইম রিপোর্টাররা অনেক সময় ঝুঁকি নিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো সাংবাদিক ক্ষতিগ্রস্ত বা আহত হলে সিএসআর ফান্ডসহ অন্যান্য উপায়ে তাদের সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে।
আরও পড়ুনঃ এশিয়ার স্বাস্থ্যখাতে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
পেশাগত দক্ষতা ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার স্বীকৃতি হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের সনদ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়েও আইনগত দিক পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান তিনি।
গণমাধ্যমকে সমাজের দর্পণ হিসেবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকরা তাদের সামাজিক ও পেশাগত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে অপরাধ কমাতে রাষ্ট্র ও সমাজ উভয়ই উপকৃত হবে। অপরাধ প্রতিরোধে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি গণমাধ্যমেরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
অ্যাসিড-সন্ত্রাস প্রতিরোধের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, কঠোর আইন, গণমাধ্যমের ভূমিকা এবং সামাজিক সচেতনতার সমন্বিত উদ্যোগের ফলে দেশে অ্যাসিড-সংক্রান্ত অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একইভাবে মাদক, অনলাইন জুয়া এবং অন্যান্য অপরাধ মোকাবিলায় রাষ্ট্র, সমাজ ও গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
অনলাইন জুয়া মোকাবিলায় আইনি সংস্কারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধের ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে আইনও যুগোপযোগী করা প্রয়োজন। পুরোনো আইন দিয়ে নতুন ধরনের অপরাধ মোকাবিলা সবসময় সম্ভব হয় না।
আরও পড়ুনঃ দুই দশকেও পাকা ভবন হয়নি, টিনশেডেই চলছে মোহাম্মাদিয়া বিদ্যালয়ের পাঠদান
তিনি জানান, ১৮৬৭ সালের Public Gambling Act রহিত করে অনলাইন জুয়া, বেটিংসহ ডিজিটাল পরিসরের জুয়া-সংক্রান্ত অপরাধ মোকাবিলায় ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। সরকারি আইনভাণ্ডার অনুযায়ী আইনটি ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর এবং এতে অনলাইন বেটিংসহ বিভিন্ন জুয়া-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডকে অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের কথাও তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, অপরাধীরা যাতে আইনের দুর্বলতার সুযোগ নিতে না পারে, সে জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী আইন সংস্কার ও নতুন আইন প্রণয়নে সরকার কাজ করছে।
আরও পড়ুনঃ অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশে সঠিক ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠার আহ্বান ববি হাজ্জাজের
ক্র্যাব সভাপতি মির্জা মেহেদী তমালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মোঃ রাশেদ খাঁন বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ক্র্যাবের সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ।
বক্তারা ক্র্যাবের ৪৩ বছরের পথচলা ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় সংগঠনটির ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ধারা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
পরে কেক কেটে ক্র্যাবের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।





