স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে অহেতুক বিলম্ব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি কাঙ্ক্ষিত সুফল পেতে দেরি হয়।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) আওতাধীন চলমান এবং ‘সবুজ পাতায়’ অন্তর্ভুক্ত অননুমোদিত প্রকল্পগুলোর পর্যালোচনা সভায় সভাপতিত্বকালে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।
সভায় প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি বাড়ানো, দ্রুত সমাপ্তি এবং কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিটি প্রকল্পে সময়ভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে নতুন ও সংশোধিত প্রকল্পের ডিপিপি দ্রুত প্রণয়নের তাগিদ দেন।
আরও পড়ুনঃ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের প্রশংসা ইইউ রাষ্ট্রদূতের
কারাগার-সংক্রান্ত প্রকল্পের বিষয়ে তিনি বলেন, নিরাপত্তা ও যাতায়াতের বিধিনিষেধের কারণে এসব প্রকল্পের কাজে কিছুটা ধীরগতি হওয়া স্বাভাবিক। তবে সাধারণ সিভিল ও অবকাঠামোগত প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের বিলম্ব মেনে নেওয়া হবে না। স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-এর সদর দপ্তর নির্মাণসহ সব সাধারণ অবকাঠামোগত কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেন তিনি।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের কঠোর প্রয়োগ ও কার্যকর পদক্ষেপের ওপরও গুরুত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি প্রতিটি জেলায় ডগ স্কোয়াড গঠন, ডোপ টেস্ট সুবিধা সম্প্রসারণ, হাজতখানা ও মালখানা সংস্কার এবং জেলা পর্যায়ে আধুনিক ফরেনসিক ল্যাব ও ডিজিটাল ফরেনসিক অবকাঠামো স্থাপনের প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।
আরও পড়ুনঃ প্রকল্প বাস্তবায়নে অহেতুক বিলম্ব নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
গ্রামীণ এলাকার থানাগুলোকে মানসম্মত মডেল থানায় রূপান্তরের জন্য নির্দিষ্ট ‘প্রোটোটাইপ ডিজাইন’ অনুসরণের নির্দেশও দেওয়া হয়। জমির সংকট রয়েছে এমন এলাকায় দ্রুত ভূমি অধিগ্রহণ করে একক ও সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লজিস্টিকস ও যানবাহন সংকট নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভায় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি সরকারি প্রকল্পের সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিত এবং কাজের পুনরাবৃত্তি এড়াতে পৃথক প্রকল্পের পরিবর্তে ‘প্রোগ্রামেটিক বা ক্লাস্টার অ্যাপ্রোচ’ গ্রহণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের মেয়াদে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জনের লক্ষ্যে চলমান প্রকল্প পুনর্মূল্যায়ন ও রিস্কোপিংয়ের ওপর গুরুত্ব দেন।
সভায় জানানো হয়, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে ‘জনশৃঙ্খলা ও সুরক্ষা’ খাতের উন্নয়নে এডিপিতে মোট ২ হাজার ৬৬২ দশমিক ০৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ২ হাজার ৫৫২ দশমিক ০৮ কোটি টাকা এবং প্রকল্প ঋণ বা অনুদান ১০৯ দশমিক ৯৭ কোটি টাকা।
আরও পড়ুনঃ রূপপুরের বিদ্যুৎ দ্রুত জাতীয় গ্রিডে দিতে আইএইএ প্রধানের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সুরক্ষিত ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে। এ লক্ষ্যে বিএনপির ‘নির্বাচনি ইশতেহার ২০২৬’-এর অঙ্গীকার অনুযায়ী মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ২৬টি প্রতিশ্রুতির ম্যাপিং সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩১ মেয়াদের সরকারের পঞ্চবার্ষিক অর্থনৈতিক সংস্কার ও উন্নয়ন কৌশলের ‘৩আর স্ট্র্যাটেজি’—Recovery, Restoration and Reconstruction—অনুসরণ করে আইনশৃঙ্খলা খাতকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, অধীনস্থ ১০টি দপ্তর ও সংস্থার প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকেরা উপস্থিত ছিলেন।





