একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সমাজে সঠিক ও ইতিবাচক ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। রাজনীতি, ধর্ম ও জেন্ডারসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা ও বিভ্রান্তিকর ন্যারেটিভ পর্যালোচনা করে তথ্য ও বাস্তবতাভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠায় তরুণ প্রজন্মসহ সবাইকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
আজ ঢাকার গুলশানের লেকশোর হোটেলে কোয়ালিশন ফর অ্যাডভান্সিং ইকুয়ালিটি অ্যান্ড জাস্টিস আয়োজিত ‘অঙ্গীকার থেকে বাস্তবায়ন: নারী ও শিশুর অধিকার সুরক্ষায় সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
ববি হাজ্জাজ বলেন, কয়েক ঘণ্টার আলোচনায় রাজনীতি, ধর্ম ও জেন্ডার নিয়ে বিভিন্ন ধরনের ভুল ন্যারেটিভের কথা উঠে এসেছে। সবকিছু চিহ্নিত করে দেওয়া তার দায়িত্ব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব বিষয় অংশগ্রহণকারীরা পর্যালোচনা করবেন বলে তিনি আশা করেন। ভবিষ্যতের বাংলাদেশ কেমন হবে, তা নির্ধারণে সমাজে সঠিক ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠা গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ দুই দশকেও পাকা ভবন হয়নি, টিনশেডেই চলছে মোহাম্মাদিয়া বিদ্যালয়ের পাঠদান
প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো দেশের প্রতিটি শিশুর কাছে মানসম্মত শিক্ষা যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়া। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং পর্যায়ক্রমে মাদ্রাসাগুলোকেও কার্যকর সরকারি মনিটরিংয়ের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
দুর্গম ও প্রান্তিক এলাকার শিশুদের শিক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, হাওরসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য অবকাঠামো, শিক্ষক উপস্থিতি, আবাসন এবং শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার বিশেষ চাহিদাগুলো বিবেচনায় নিয়ে পৃথকভাবে কাজ করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ ভূমি অফিসে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চালু হচ্ছে ‘ভূমিদৃষ্টি’ অ্যাপ
বিদ্যালয়ে কিশোরীদের স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে সরকারের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, কয়েকটি বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় স্যানিটারি সামগ্রী বিনামূল্যে সরবরাহ এবং শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে সচেতন করার একটি পাইলট কর্মসূচি নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।
লেখক ও উন্নয়নকর্মী নিশাত সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, আন্না মিনজ, নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি এবং সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ।
আরও পড়ুনঃ এশিয়ার স্বাস্থ্যখাতে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি ছাড়াও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
কোয়ালিশন ফর অ্যাডভান্সিং ইকুয়ালিটি অ্যান্ড জাস্টিস হলো সাতটি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম। এর সদস্য সংগঠনগুলো হলো—ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স, জাগো ফাউন্ডেশন, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, অক্সফাম, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল, সেভ দ্য চিলড্রেন এবং ওয়াটারএইড।





