মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও স্বাধীন গণমাধ্যমের পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে মানহানিকর বক্তব্য, ভুল তথ্য ও অপতথ্যের বিস্তার ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
আজ সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী। এ সময় তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
আরও পড়ুনঃ অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশে সঠিক ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠার আহ্বান ববি হাজ্জাজের
আন্দালিভ রহমান বলেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) বিরোধী দলের সংবাদ প্রচারের বিষয়টি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।
আরও পড়ুনঃ দুই দশকেও পাকা ভবন হয়নি, টিনশেডেই চলছে মোহাম্মাদিয়া বিদ্যালয়ের পাঠদান
তিনি বলেন, সরকার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও স্বাধীন গণমাধ্যমের পরিবেশ সমুন্নত রাখতে বদ্ধপরিকর। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মানহানিকর বক্তব্য, ভুল তথ্য ও অপতথ্য ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আন্দালিভ রহমান বলেন, গত ১৭ বছরের অভিজ্ঞতা ইতিবাচক ছিল না। তবে বর্তমান সরকার সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে।
তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী ভুল তথ্য ও অপতথ্য প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি এ ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, ভুল তথ্য ও অপতথ্যের সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর।
আরও পড়ুনঃ ভূমি অফিসে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চালু হচ্ছে ‘ভূমিদৃষ্টি’ অ্যাপ
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। নাগরিকরা যাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপদ বোধ করেন, সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ক্রমেই আরও শক্তিশালী হচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এ সম্পর্কের পরিধি বাড়ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ এশিয়ার স্বাস্থ্যখাতে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
রাষ্ট্রদূত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত অর্থনৈতিক সহায়তার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের জন্য স্বাস্থ্য খাতে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ সহযোগিতার বিষয়টিও উল্লেখ করেন।
সাক্ষাৎকালে সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়েও আলোচনা হয়। এ প্রসঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের কোনো ইচ্ছা সরকারের নেই। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মানুষের মতপ্রকাশের অধিকার অক্ষুণ্ন রেখেই দায়িত্বশীল ও সৎ উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।





