দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) পর্যটন খাতের অবদান ৮ থেকে ৯ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে পর্যটনের সম্ভাবনা কয়েকটি পরিচিত গন্তব্যে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, প্রকৃতি ও মানুষের জীবনকেন্দ্রিক নানা গল্প রয়েছে। এসব বৈচিত্র্যময় সম্ভাবনাকে পরিকল্পিত, টেকসই ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক পর্যটনশিল্পে রূপ দেওয়াই এখন সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
আজ ঢাকায় ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিন দিনব্যাপী এ পর্যটন মেলায় ১০টি দেশের ২০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা অংশ নিয়েছে। প্রায় ৩০০টি স্টলে বিভিন্ন দেশের পর্যটন গন্তব্য, পর্যটনপণ্য, সেবা এবং বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ ধানমন্ডি ও আবাহনী মাঠের ব্যবস্থাপনায় দুই মন্ত্রণালয়ের সমঝোতা
পর্যটন খাতের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে শৃঙ্খলার ঘাটতিসহ নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। গত দুই দশকে পর্যটন খাতে কাঙ্ক্ষিত ও দৃশ্যমান উন্নয়ন উদ্যোগের ঘাটতি ছিল। এই বাস্তবতার মধ্যেই সরকার পর্যটন খাতকে অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সুষম আঞ্চলিক উন্নয়নের বৃহত্তর কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার শূন্য থেকে কাজ শুরু করছে, তবে আশাবাদ নিয়েই এগোচ্ছে। সরকারের মূল লক্ষ্য—‘আগামীকাল নয়, শুরু হোক এখনই’।
বর্তমান সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, দেশের পর্যটন উন্নয়নে একটি Tourism Master Plan প্রণয়নের কাজ চলছে। এতে বিভিন্ন শ্রেণির প্রায় ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণ ও গন্তব্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশের পর্যটন সম্পদকে সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় এনে পর্যায়ক্রমে উন্নয়ন করা হবে।
আরও পড়ুনঃ নিরাপদ খাদ্যের জন্য অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে
কক্সবাজারকে আঞ্চলিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। বিশ্বের দীর্ঘতম বালুকাময় সমুদ্রসৈকতকে ঘিরে কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন অবকাঠামো, সেবা, বিনোদন এবং বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানোর ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, নতুন পর্যটন নীতিমালায় বেসরকারি বিনিয়োগ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP)-এর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
পর্যটন খাতের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, জিডিপিতে পর্যটনের অবদান ৮ থেকে ৯ শতাংশে উন্নীত করতে পরিকল্পিত বিনিয়োগ, দক্ষ মানবসম্পদ, আধুনিক অবকাঠামো, উন্নত সেবা, কার্যকর বিপণন এবং আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, কোনো দেশের পর্যটনশিল্পকে টেকসইভাবে এগিয়ে নিতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সম্মিলিত উদ্যোগ অপরিহার্য। বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে বৈশ্বিক বাজারে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার সোহেল আহমেদ, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী, এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন হেলালসহ নেপাল, ফিলিপাইন, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রদূতরা উপস্থিত ছিলেন।





