নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করতে প্রাণিসম্পদ খাতে অ্যান্টিবায়োটিকের অপ্রয়োজনীয় ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
তিনি বলেছেন, পোল্ট্রি শিল্পে উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, মানসম্মত পশুখাদ্য নিশ্চিত এবং ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ খাদ্য সরবরাহে খামারি, ফিড উৎপাদনকারী ও সরকারের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। এ সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে খামারিরা যেমন লাভবান হবেন, তেমনি ভোক্তারাও সাশ্রয়ী মূল্যে নিরাপদ প্রাণিজ প্রোটিন পাবেন।
আজ গাজীপুর সদরের পিটিআই অডিটোরিয়ামে ‘নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য আইন, ২০১০ বাস্তবায়ন ও মান নিয়ন্ত্রণ জোরদারকরণ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের পোল্ট্রি ও প্রাণিসম্পদ খাতের অন্যতম প্রধান ভিত্তি প্রান্তিক খামারিরা। তাদের টিকিয়ে রাখার পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খামারিদের কৃষক কার্ডের আওতায় এনেছেন, যাতে তারা কৃষির মতো সহজ শর্তে ঋণ, বিদ্যুৎ সুবিধা ও সরকারি প্রণোদনা পাওয়ার সুযোগ পান।
আরও পড়ুনঃ রূপপুরের বিদ্যুৎ দ্রুত জাতীয় গ্রিডে দিতে আইএইএ প্রধানের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ
তিনি বলেন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন শুধু খামারি বা ভোক্তার বিষয় নয়; এটি জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ার পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ে। তাই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে খামার পরিচালনা এবং ওষুধের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে খামারিদের সচেতন করতে মাঠপর্যায়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, উৎপাদন ব্যয় সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং ভোক্তাদের ন্যায্যমূল্যে নিরাপদ খাদ্য দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। বাংলাদেশে পোল্ট্রি খাতের সম্ভাবনা অনেক। ইতোমধ্যে দেশ থেকে হ্যাচিং ডিম রপ্তানি শুরু হয়েছে, যা এ খাতের জন্য ইতিবাচক অগ্রগতি। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রাণিজ পণ্য রপ্তানি বাড়াতেও সরকার কাজ করছে।
আরও পড়ুনঃ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের প্রশংসা ইইউ রাষ্ট্রদূতের
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং খামারিদের সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানে সরকার নিয়মিত মাঠপর্যায়ে মতবিনিময় করছে। উৎপাদন ব্যয় কমানো, সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা এবং বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
গাজীপুরে ঘোড়ার মাংস বিক্রির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার বিষয়টি নিয়ে সতর্ক রয়েছে। এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুনঃ প্রকল্প বাস্তবায়নে অহেতুক বিলম্ব নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর, গাজীপুর আয়োজিত কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান এবং বাংলাদেশ ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (ফিয়াব) সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক।
এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও স্থানীয় প্রাণিসম্পদ খামারিরা উপস্থিত ছিলেন।





