চট্টগ্রামে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম বন্ধে ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা) পরিচালিত কার্যক্রম পরিদর্শন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম দপ্তরের একটি প্রতিনিধি দল।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) নগরের ফিশারিঘাটসংলগ্ন বাস্তহারা এলাকার শুকনা মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ ইয়ার্ডগুলো ঘুরে দেখেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
পরিদর্শন দলে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম অ্যাটাশে লীনা খান ও শ্রম বিশেষজ্ঞ মো. সাইফুজ্জামান মেহরাব। এ সময় তারা শুকনা মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজে যুক্ত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন। শিশুশ্রমে নিয়োজিত শিশুদের সঙ্গেও কথা বলে তাদের কাজের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেন।
এ ছাড়া শুকনা মাছ ইয়ার্ড সমবায় সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন তারা। বৈঠকে শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা, কর্মক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ এবং শিশুশ্রম বন্ধে বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।
পরিদর্শনকালে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম থেকে বেরিয়ে আসা ইপসার প্রকল্পের কয়েকজন সুবিধাভোগী নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তারা জানান, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং অভিভাবকদের জীবিকায়ন সহায়তা পরিবারের আর্থিক চাপ কমাতে সাহায্য করেছে। বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরি হওয়ায় শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যুক্ত থাকার পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার পথও তৈরি হয়েছে।
পরিদর্শন শেষে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম অ্যাটাশে লীনা খান বলেন, শিশুশ্রম কমাতে ইপসার উদ্যোগটি একটি সমন্বিত কার্যক্রম। কিশোর-কিশোরীদের কারিগরি প্রশিক্ষণের পাশাপাশি অভিভাবকদের জীবিকায়ন প্রশিক্ষণ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে তার পর্যবেক্ষণে মনে হয়েছে।
ইপসার অ্যাডভোকেসি ফোকাল পারসন মোহাম্মদ আলী শাহিন বলেন, শিশুশ্রম বন্ধে কার্যকর ও তথ্য-প্রমাণভিত্তিক সমাধান নিশ্চিত করতে গবেষণা এবং অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম আরও জোরদার করা দরকার। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকারি সংস্থা ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ইপসার উদ্যোগে বাস্তবায়িত ‘ফ্রি কিডস’ প্রকল্পটি ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যাট লোকাল লেভেল’ (কল) কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। প্রকল্পটিতে সহায়তা দিচ্ছে সুইস এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কো-অপারেশন (এসডিসি) এবং সলিডার সুইস বাংলাদেশ।





