২০৩০ সালের মধ্যে ৬৮৯ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগ বিপিডিবির

২০৩০ সালের মধ্যে ৬৮৯ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগ বিপিডিবির
যমুনা সেতু এলাকায় ৫৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র, ১২০ একর জমি ইজারার অনুমোদন

নিজস্ব অর্থায়নে ২০৩০ সালের মধ্যে সারাদেশে মোট ৬৮৯ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিভিন্ন সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। এ লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, প্রকল্প প্রস্তাব প্রণয়ন এবং সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের জন্য উপযুক্ত জমি নির্বাচনসহ বিভিন্ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

বিপিডির এক কর্মকর্তা জানান, গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের জন্য প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (পিডিপিপি) ও উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়ন এবং সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় জমিও নির্বাচন করা হয়েছে।

রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াটের প্রকল্প

বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বিপিডিবি। প্রকল্পটির বিস্তারিত প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদনের জন্য ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে রামপালের এই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের লক্ষ্য রয়েছে।

সোনাগাজীতে ২২২ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র

ফেনীর সোনাগাজীতে ২২২ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্রিড-সংযুক্ত সৌর ফটোভোলটাইক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করেছে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানি (আইআইএফসি)।

প্রকল্পটি ২০২৮ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে চলছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎেও অগ্রগতি

বিপিডিবির ওই কর্মকর্তা জানান, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিজস্ব অর্থায়নে ৬৮৮ কিলোওয়াট-পিক (কিলোওয়াট-পিক বা kWp) ক্ষমতার ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।

এ ছাড়া চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ৪ হাজার ১৯৫ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে কাজ চলছে।

বিপিডিবির নিজস্ব ভবন ও জমিতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের জন্য প্রায় দুই বছর আগে ১৭টি প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল বলেও জানান কর্মকর্তা।

বিভিন্ন স্থাপনায় চালু হয়েছে সৌরবিদ্যুৎ

বিপিডিবি সূত্র জানায়, কাপ্তাইয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং একাডেমিতে ১৭০ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতার ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে উৎপাদনে রয়েছে।

চট্টগ্রাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ১৩০ কিলোওয়াট-পিকের একটি ব্যবস্থা চলতি বছরের জুনে এবং রাজশাহী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ১২০ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতার আরেকটি ব্যবস্থা ৫ সেপ্টেম্বর চালু হয়েছে।

এ ছাড়া গত ১২ সেপ্টেম্বর খুলনা পাওয়ার প্ল্যান্টে ২৬৮ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতার ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ৪ হাজার ১৯৫ কিলোওয়াট-পিক

বিপিডিবি চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে মোট ৪ হাজার ১৯৫ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতার গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালুর জন্য কাজ করছে।

পরিকল্পনার আওতায় সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার স্টেশনে ৩০০ কিলোওয়াট-পিক, কাটাখালীতে ৭৩, বাঘাবাড়ী পাওয়ার স্টেশনে ৬৫, ভোলা ২২৫ মেগাওয়াট পাওয়ার প্ল্যান্টে ১৯০, কক্সবাজার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ২৩০ এবং কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ৩৩২ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগ রয়েছে।

এ ছাড়া ঘোড়াশাল পাওয়ার স্টেশনের ভবনগুলোতে ১ হাজার ৩০০ কিলোওয়াট-পিক, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৮৭, চট্টগ্রাম পাওয়ার স্টেশনে ৩৯০, দোহাজারী-কালীআইশ ১০০ মেগাওয়াট পাওয়ার প্ল্যান্টে ১২২, শিকলবাহা পাওয়ার প্ল্যান্টে ৭৫০, হাটহাজারী ১০০ মেগাওয়াট পাওয়ার প্ল্যান্টে ৮৬ এবং ঘোড়াশাল প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ১৭০ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

জলবায়ু অঙ্গীকার পূরণে সহায়ক হবে

বিপিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, বোর্ডের মালিকানাধীন অব্যবহৃত ছাদ ও জমিতে নিজস্ব অর্থায়নে এসব সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে বাংলাদেশের জলবায়ু সংক্রান্ত অঙ্গীকার পূরণে সহায়তা মিলবে। একই সঙ্গে পরিবেশের ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি ব্যক্তিপর্যায়েও বাড়ির ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনে মানুষকে উৎসাহিত করবে এই উদ্যোগ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

ডেস্ক

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।