লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ৭ নম্বর বামনী ইউনিয়নের কলাকোপা গ্রামের মুুলাম ভূঁইয়া বাড়ির পাশে নোয়া বাড়িতে দীনমজুর ইসমাইলের স্ত্রী তানিয়া আক্তার (৩০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের অভিযোগ, তাকে পিটিয়ে হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে এ বিষয়ে পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল প্রায় ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত তানিয়া আক্তার এক সন্তানের জননী। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তার সৎ শাশুড়ি রুবিনা বেগমের সঙ্গে পারিবারিক বিরোধ চলছিল এবং বিভিন্ন সময় তিনি নির্যাতনের শিকার হতেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রুবিনা বেগম তানিয়াকে মারধর করেন। পরে তার মৃত্যু হলে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর উদ্দেশ্যে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়। এতে ব্যর্থ হলে পরিবারের অন্য এক সদস্যের সহায়তায় তাকে নামিয়ে খাটের ওপর শুইয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর রুবিনা বেগম পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে একটি কক্ষে আটকে রাখে এবং গ্রাম পুলিশ সদস্য তহিরের মাধ্যমে রায়পুর থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে তদন্ত কর্মকর্তা ফারুক সঙ্গীয় ফোর্স ও নারী পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত করেন। এ সময় ঘটনাটি আত্মহত্যা হতে পারে বলে গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা পুলিশ কর্মকর্তাকে কিছু সময়ের জন্য অবরুদ্ধ করে রাখে এবং পুলিশ সুপারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত জানায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও ডিবির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
উত্তেজনার মধ্যে স্থানীয়রা যে কক্ষে রুবিনা বেগমকে আটকে রেখেছিল, সেই ঘর ও আশপাশে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। বাড়ির ছাদে থাকা কয়েকটি টব ও গাছপালারও ক্ষতি করা হয়।
নিহতের মা আনোয়ারা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আমার মেয়েকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার এবং অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”
নিহতের স্বামী ইসমাইল হোসেন বলেন, “আমার স্ত্রীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”
তানিয়ার একমাত্র প্রতিবন্ধী সন্তানও দাবি করে, তার দাদি তার মাকে মারধর করে পরে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেন বলেন, “এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকাবাসী গভীরভাবে শোকাহত। আমরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
এ বিষয়ে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে জানা যায়।
এ ক্যটাগরির আরো খবর..