× Banner
সর্বশেষ
সাংবাদিকতা পেশা নির্ধারণে যথাযথ কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি -তথ্যমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি: বেসামরিক কর্মসূচির আড়ালে বাড়ছে কৌশলগত উদ্বেগ বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় নেওয়ার আহ্বান ফিলিপাইনে শুরু ৩৩তম আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের বৈঠক এলএনজি টার্মিনালে ত্রুটি, দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট নয়াদিল্লিতে ফের উত্তেজনা, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে আহত ৫ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনায় ফের বাড়ল তেলের দাম, ব্রেন্ট ছাড়াল ৯৬ ডলার হাম ও ডেঙ্গুর দ্বৈত আতঙ্কে দেশ, বাড়ছে শিশু ও সাধারণ মানুষের ঝুঁকি দেশের ১০ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ো হাওয়া র পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত চীনের ১ লাখ ডলার সহায়তা: বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট

ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি: বেসামরিক কর্মসূচির আড়ালে বাড়ছে কৌশলগত উদ্বেগ

Kishori
হালনাগাদ: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি
যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি

যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে, যার মাধ্যমে সৌদি আরব বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ পেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রণালয় (ডিপার্টমেন্ট অব এনার্জি) চুক্তিটিকে ‘শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এই চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরবের পারমাণবিক জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়বে এবং মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত অংশীদারত্বের সুযোগ তৈরি হবে।

তবে চুক্তির বিস্তারিত বিষয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভবিষ্যতে সৌদি আরব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেতে পারে। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন হলেও উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতেও ব্যবহার করা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, সৌদি আরবকে এ ধরনের সক্ষমতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। তাদের আশঙ্কা, এর ফলে ভবিষ্যতে অঞ্চলটিতে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তির পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে একটি ‘দ্বিপক্ষীয় সুরক্ষা চুক্তি’ও হয়েছে। মার্কিন মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই চুক্তিগুলো দীর্ঘমেয়াদি বহু বিলিয়ন ডলারের অংশীদারত্বের আইনি ভিত্তি তৈরি করবে এবং পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কৌশলগত সহযোগিতার লক্ষ্য পূরণে ভূমিকা রাখবে।

সৌদি আরবের পক্ষ থেকেও চুক্তি নিয়ে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। রিয়াদ জানিয়েছে, এটি দুই দেশের জ্বালানি খাতে চলমান সহযোগিতার সম্প্রসারণ। গত নভেম্বরে সৌদি নেতৃত্বের ওয়াশিংটন সফরের পর এই চুক্তি চূড়ান্ত করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তনের সময় এই চুক্তির ঘোষণা বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। সৌদি আরবে একাধিক মার্কিন সামরিক স্থাপনা রয়েছে, যেগুলো আঞ্চলিক সংঘাতের সময় সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

এদিকে, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌপথ অবরোধের হুমকির পরপরই এই পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তির ঘোষণা আসে। ফলে চুক্তিটিকে শুধু জ্বালানি সহযোগিতা নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থানের অংশ হিসেবেও দেখছেন বিশ্লেষকরা।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..