ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জাতীয়তাবাদ, রাষ্ট্রবাদ এবং ‘ডিপস্টেট’ (Deep State)-এর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে দিল্লির যন্তর মন্তর কেন্দ্রিক একাধিক আন্দোলন, যার মধ্যে সোনম ওয়াংচুকের অনশন কিংবা শিক্ষা খাতের নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস বিতর্ক ঘিরে গড়ে ওঠা বিক্ষোভের পেছনে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন।
অর্থবল ও বিদেশি প্রভাবের অভিযোগ
অভিযোগ উঠছে যে, দেশীয় রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির পেছনে বিশাল অঙ্কের আর্থিক লেনদেন এবং বহিরাগত শক্তির ইন্ধন রয়েছে। বিশ্ব রাজনীতিতে নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে বিভিন্ন সময়ে ডিপস্টেটের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভারতের ক্ষেত্রেও অভিযোগ করা হচ্ছে যে, তথ্যপ্রযুক্তি, সংবাদমাধ্যম এবং সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে জনমতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ ও বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচির পেছনের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, অনলাইনের মাধ্যমে অর্থায়ন এবং উগ্রপন্থী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলোর অপ্রত্যক্ষ সমর্থনের খবর দেশের নিরাপত্তাকে নতুন চিন্তায় ফেলছে। বিশেষ করে নিষিদ্ধ বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ও তাদের নেতাদের সাথে নির্দিষ্ট কিছু আন্দোলনকারীর দূরবর্তী যোগাযোগের তথ্য দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
সরকারের অবস্থান ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা
আন্তর্জাতিক বহুমুখী চাপ এবং অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলার মধ্যেও ভারত সরকার অত্যন্ত সতর্ক ও নিয়মতান্ত্রিক পদক্ষেপ নিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি দিল্লির প্রধান মেট্রো স্টেশনগুলো বন্ধ রাখা বা পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশ মেনে পুনরায় সচল করার মতো ঘটনাগুলো গণতান্ত্রিক কাঠামোর নমনীয়তাই প্রকাশ করে। সরকার প্রশাসনিক ও মনস্তাত্ত্বিক উপায়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে, যাতে সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ণ না হয়েও রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা বজায় থাকে।
লোকসভা নির্বাচন ও ডিপস্টেটের চ্যালেঞ্জ
গত ২০১৯ ও পরবর্তী সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নানা কৌশলগত প্রচারণার মাধ্যমে রাজনৈতিক মেরুকরণ ঘটানোর চেষ্টা চালানো হয়েছিল। বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের মাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলার যে চেষ্টা করা হয়েছিল, তার বিরুদ্ধে নতুন ভারতে জাতীয়তাবাদী চেতনা একটি প্রতিরক্ষামূলক দেয়াল গড়ে তুলেছে।
উপসংহার
ডিপস্টেট বা আন্তর্জাতিক বিরোধী শক্তির অর্থবল ও চক্রান্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় জাতীয়তাবাদ এবং সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ কতটা শক্তিশালী, তা সময়ের সাথে সাথে প্রমাণিত হচ্ছে। সাধারণ মানুষের সচেতনতা এবং দেশের রাষ্ট্রবাদী চেতনার কাছে এই ধরণের অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা কতটুকু সফল হবে—তা এখন মূল দেখার বিষয়।




