মার্চে পোশাক রপ্তানি কমেছে ১৯ শতাংশ

মার্চে পোশাক রপ্তানি কমেছে ১৯ শতাংশ
ইউরোপের পোশাক বাজারে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের উত্তেজনা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে প্রধান বাজার ইউরোপে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দেওয়ায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে প্রায় ১৯ শতাংশ। একই সঙ্গে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে মোট রপ্তানি কমেছে ৫ দশমিক ৫১ শতাংশ।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে জানা গেছে, সদ্য সমাপ্ত মার্চ মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ২৭৮ কোটি ২২ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার। যেখানে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে রপ্তানি হয়েছিল ৩৪৪ কোটি ৯৯ লাখ ২০ হাজার ডলার। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে রপ্তানি কমেছে ৬৬ কোটি ৭৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার, যা শতাংশ হিসেবে ১৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ হ্রাস।

তথ্য অনুযায়ী, তৈরি পোশাকের দুই প্রধান খাত— নিট ও ওভেন— উভয় ক্ষেত্রেই রপ্তানি কমেছে। এর মধ্যে নিট পোশাক রপ্তানি কমেছে ২১ দশমিক ২০ শতাংশ এবং ওভেন পোশাক রপ্তানি কমেছে ১৭ দশমিক ৩২ শতাংশ।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে মোট তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ২ হাজার ৮৫৭ কোটি ৮৪ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি হয়েছিল ৩ হাজার ২৪ কোটি ৬৩ লাখ ৪০ হাজার ডলার। ফলে মোট রপ্তানি আয় কমেছে ৫ দশমিক ৫১ শতাংশ।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক ও ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, তৈরি পোশাক রপ্তানি কমে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। বিশেষ করে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আগে থেকেই ইউরোপের বাজারে চাহিদা কমে গেছে। ইউরোপ বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার হওয়ায় এর প্রভাব সরাসরি রপ্তানি আয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

মহিউদ্দিন রুবেল আরও বলেন, অনেক ক্রেতা (বায়ার) নতুন অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তারা নতুন অর্ডার কম দিয়ে আগের স্টক শেষ করার দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। ফলে রপ্তানি কমে যাচ্ছে।

তিনি মনে করেন, মার্চ মাসে দীর্ঘ ঈদ ছুটিও রপ্তানি কমে যাওয়ার একটি কারণ হতে পারে। কারণ ছুটির কারণে উৎপাদন ও শিপমেন্ট কিছুটা ব্যাহত হয়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, চলতি অর্থবছরের আগস্ট মাস থেকেই তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ধীরগতির প্রবণতা শুরু হয়েছে। আগস্টে রপ্তানি কমেছে ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ, সেপ্টেম্বরে ৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ, অক্টোবরে ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ, নভেম্বরে ৫ শতাংশ, ডিসেম্বরে ১৪ দশমিক ২৩ শতাংশ, জানুয়ারিতে ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ এবং ফেব্রুয়ারিতে ১৩ দশমিক ২১ শতাংশ কমেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পে চাপ আরও কিছুদিন থাকতে পারে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।