মাগুরার গোপাল পেলেন স্বপ্নের গাড়ি

মাগুরা প্রতিনিধিঃ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের কল্যাণে আইসক্রিম বিক্রেতা গোপালদা পেলেন তার স্বপ্নের গাড়ি। ‘প্রিয় ফেরিওয়ালা আমাদের গোপালদা’ নামে একটি ফেসবুক গ্রুপের ৩ শ’ বন্ধু তহবিল সংগ্রহ করে গোপালদার জন্য কিনে দিলেন অত্যাধুনিক একটি আইসক্রিম বিক্রয়ের গাড়ি। সোমবার বিকালে আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে গাড়িটি তুলে দেয়া হয়।

জানা যায়, মাগুরা শহরের পারনান্দুয়ালী গ্রামের বাসিন্দা গোপাল বিশ্বাস দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে মাগুরার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাঁধে ভারি কঠের বাক্স নিয়ে আইসক্রিম বিক্রি করে আসছিলেন। সেই ছোট বেলা থেকে যারা তার কাছ থেকে আইসক্রিম কিনে খেয়েছেন দেশ বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সেই শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে গ্রুপ তৈরি করে তার জন্য তহবিল সংগ্রহ করেন।

সোমবার বিকালে শহরের সৈয়দ আতর আলী গণগ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে লক্ষাধিক টাকায় তৈরি আইসক্রিম গাড়িটি হস্তান্তর করা হয়। সেখানে ফেসবুক গ্রুপের উদ্যোক্তা সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম হিরক, সাংবাদিক আবু বাসার আখন্দ, প্রভাষক শতদল বিশ্বাস, শিউলি শিকদার, অ্যাড. রাশেদ মাহমুদ শাহিনসহ আরো অনেক সদস্য।

হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত গৃহিনী শিউলি শিকদার বলেন, ছোটবেলায় গোপালদার কাছ থেকে অনেক আইসক্রিম খেয়েছি। অনেক সময় পয়সা না থাকলেও তার কাছ থেকে বাকি খেয়েছি। অনেক সময় সেইসব টাকা শোধ করা হয়নি। তার প্রতি রয়েছে আমাদের অনেক ভালবাসা।

কলেজ শিক্ষক শতদল বিশ্বাস বলেন, ৮০’র দশকে যখন স্কুলে পড়তাম তখন এখনকার শিক্ষার্থীদের মত পকেটে  টাকার ছড়াছড়ি যেমন ছিল না তেমনি ফাস্ট ফুডের নামে রকমারী খাবারও পাওয়া যেত না। তখন গোপাল দার ৪ আনা ৮ আনার আইসক্রিমই ছিল একমাত্র আকর্ষণীয় ও লোভনীয় খাবার। যে কারনে এখনো গোপাল দা আর তার সেই আইক্রিমের স্মৃতি প্রতি মুহুর্তে হৃদয়ের ভেতরে নাড়া দেয়।

ফেসবুক গ্রুপের হাত থেকে মূল্যবান আইসক্রিম গাড়িটি পেয়ে উচ্ছসিত গোপাল বিশ্বাস বলেন, ২০ বছর বয়স থেকেই কাঠের বাক্সে আইসক্রিম বিক্রি করছি। স্বপ্ন ছিল একটি ভাল গাড়িতে করে অইসক্রিম বিক্রি করার। আজ সেই স্বপ্ন পুরন হয়েছে। অবেগাল্পুত কন্ঠে গোপাল দা আরো বলেন, দীর্ঘ ৫০ বছরে হাজার হাজার শিশুরা আমার কাছ থেকে আইসক্রিম কিনে খেয়েছে। যারা এখন অনেক বড় ও প্রতিষ্ঠিত। সেই সব শিশুরা অনেক বড় হয়েও যে তাকে মনে রেখেছে এবং তারা যে আমাকে এত ভালোবাসে তা কখনো বুঝতে পারিনি। তাদের ভালোবাসার এই ঋণ আমি কখনো শোধ করতে পারবো না।

‘প্রিয় ফেরিওয়ালা আমাদের গোপালদা’ গ্রুপের উদ্যোক্তা সাংবাদিক আবু বাসার আখন্দ বলেন, এখন ফেসবুক সামাজিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে। গোপালদাকে সহায়তার মাধ্যম দিয়ে এখানে ফেসবুকের ইতিবাচক দিকটিই তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। সদিচ্ছা থাকলে অনেক কঠিনতম কাজও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সহজেই করা সম্ভব যার একটি অন্যতম উদাহরণ তৈরি করেছে মাগুরার এই ফেসবুক গ্রুপটি।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।