বিদেশি নাগরিকদের করের আওতায় আনা ও তাদের নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আয়কর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে ‘সমন্বিত টাস্কফোর্স’ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
মঙ্গলবার (১ মার্চ) এনবিআর সম্মেলন কক্ষে ‘দেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক ও তাদের নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রযোজ্য কর, জরিমানা আরোপ ও ফৌজদারি কার্যক্রম’ সংক্রান্ত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান সভায় সভাপতিত্ব করেন।
এনবিআর‘র জনসংযোগ কর্মকর্তা সৈয়দ এ মু’মেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সভায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য, এফবিসিসিআই’র প্রতিনিধি ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।
বিদেশি নাগরিকদের ওপর প্রযোজ্য কর সংগ্রহ মনিটরিং ও নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা, ফৌজদারি কার্যক্রম বাস্তবায়নে একটি দীর্ঘমেয়াদী, টেকসই পরিকল্পনা নিয়েছে এনবিআর।
সভায় বলা হয়, দেশে প্রকৌশল, চিকিৎসা, গার্মেন্টস, মার্চেন্ডাইজিং, তথ্যপ্রযুক্তি, শিল্প-কলকারখানাসহ বিভিন্ন খাতে বিদেশি নাগরিকরা কাজ করছেন। অবৈধভাবে অনেক বিদেশি দেশে কাজ করছেন ও অনেক নাগরিক স্বল্প সময়ের জন্য কাজ করে বিপুল পারিতোষিক নিয়ে আয়কর না দিয়ে দেশ ত্যাগ করেন।
বৈধ ও অবৈধ উভয় নাগরিক ও তাদের নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আয়কর কার্যক্রম মনিটরিং অত্যন্ত জরুরি বলেও সভায় আলোচনা করা হয়।
বিনিয়োগ বোর্ড, বেপজা, এনজিও ব্যুরো, এনএসআই, এসবি, পাসপোর্ট ও বহির্গমন বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, বিটিআরসি থেকে তথ্য সংগ্রহ করে কাজ করবে টাস্কফোর্স।
এছাড়া বিদেশি নাগরিকদের কর সংক্রান্ত একটি ডাটা ব্যাংক তৈরি করা হবে। সেক্ষেত্রে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের প্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য সংগ্রহ করা করে সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হবে।
বিদেশি নাগরিকরা যে সব প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সচেতনতামূলক সভা হবে।
কর খেলাপি বিদেশি নাগরিক ও তাদের নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের আয়কর ও জরিমানা আরোপে সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেলের (সিআইসি) সহযোগিতায় তাৎক্ষণিক অভিযান চালানো হবে।
বিদেশি নাগরিকদের দেশ ত্যাগ করার সময় বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরে আয়কর অধ্যাদেশের ১০৭ অনুযায়ী কর পরিশোধ সনদপত্র প্রদর্শন ও দাখিলের ব্যবস্থা নিতে হবে বলেও জানান জনসংযোগ কর্মকর্তা।
সভায় চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান বলেন, বিদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে যথাযথ আয়কর সংগ্রহ ও ভবিষ্যতে যারা আসবে তাদের থেকে রাজস্ব সংগ্রহের কৌশল নিয়েছে এনবিআর।
তিনি বলেন, এ প্রক্রিয়ায় কোনো নাগরিকের অবৈধভাবে কাজ করার সুযোগ থাকবে না। যারা বৈধভাবে কাজ করছে তারা আয়কর আইন অনুযায়ী কর পরিশোধে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন।
এছাড়া বিদেশে অর্থ পাঠানো সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন বিষয়ক তথ্য কর বিভাগে প্রদান ও প্রকৃত অর্থ পরিশোধের তথ্য উদ্ধারে সহযোগিতা পাওয়া যাবে বলেও জানান তিনি।



