মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের ১৪৫ নং পশ্চিম শশিকর ওয়াপদারপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান।
শ্রেণিকক্ষের সংকট ও বিকল্প ভবন না থাকায় কয়েক বছর ধরে ঝুঁকি নিয়েই ওই ভবনে ক্লাস করছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বিদ্যালয়টি ২০০১ সালে উপজেলার পশ্চিম শশিকর এলাকায় একটি প্রবাহমান ওয়াপদারখালপাড়ে ভবন পুনর্নির্মাণ করা হয়।একদিকে ভবনের পাশে খালের প্রবল স্রোত অপরদিকে ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে।ভবনের প্রায় ৩৬টি পিলারে ফাটল ও পলেস্তারা খসে পড়ার চিহ্ন রয়েছে।
এতে ভবনটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠেছে।বৃষ্টি হলে ছাদ ও দেয়াল চুইয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে মেঝে স্যাঁতসেঁতে হয়ে যায়। এতে স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।স্কুলের ভবনটি নির্মাণ করার কয়েক বছর পর থেকেই বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিতে শুরু করে। সময়ের সঙ্গে ফাটলের পরিমাণ বাড়লেও শ্রেণিকক্ষের সংকটের কারণে ঝুঁকি নিয়েই সেখানে পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
ঝড়-বৃষ্টি হলে ভবনটির নিরাপত্তা নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। দেয়াল ও পলেস্তারা খসে পড়ায় যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, “ক্লাস করার সময় ভবনের দেয়াল ও পিলারের ফাটল দেখে ভয় লাগে। বৃষ্টি হলে ছাদ ও দেয়াল দিয়ে পানি পড়ে বই খাতা ভিজে যায়।
ফাটলের ধসে পড়ার ভয়ে থাকি আমরা।স্কুলে আসতে ভয় করে।আমরা নিয়মিত স্কুলে আসতে চাই এবং পড়াশোনা করতে চাই। কিন্তু ভবনের অবস্থা দেখে অনেক সময় ভয় লাগে। দ্রুত ভবনটি সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণ করা হলে আমাদের জন্য ভালো হয়।”
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। কিন্তু পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি ব্যবহার করা ছাড়া আপাতত তাদের সামনে কোনো বিকল্প নেই। বৃষ্টি হলে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ায় পাঠদান আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
অভিভাবকরাও দ্রুত ভবনটির অবস্থা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে ডাসার উপজেলা প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম বলেন, “ওয়াপদারপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্পর্কে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার একটি চিঠি দিয়েছেন।
আমি ইতিমধ্যে বিষয়টি অবগত হয়েছি। আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি, ভবনটির বিমের কংক্রিট ধসে পড়েছে। বিদ্যালয়টি শিক্ষার্থীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। বিদ্যালয়টি পুনর্নির্মাণের জন্য আমরা প্রস্তাব পাঠিয়েছি।”
ডাসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিল পারভেজ বলেন,“আমি জেনেছি ওয়াপদারপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই শিক্ষার্থীরা ক্লাস করছে। এ বিষয়ে আমাদের একটি কমিটি রয়েছে।
কমিটির মাধ্যমে ভবনটি যাচাই-বাছাই করে ব্যবহার উপযোগী কি না, তা নির্ধারণ করা হবে। ইতিমধ্যে উপজেলা প্রকৌশলী বিষয়টি সরেজমিনে দেখেছেন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাও বিষয়টি অবগত আছেন। পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
অভিভাবক ও স্থানীয়দের দাবি, কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে পাঠদানের জন্য দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি।





