বাজেটে বড় সুবিধা পাচ্ছেন বেসরকারি ব্যাংক মালিকরা

বিশেষ প্রতিবেদকঃ বড় সুবিধা পাচ্ছেন বেসরকারি ব্যাংক মালিকরা ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে। মুনাফা বাড়াতে আড়াই শতাংশ কমানো হয়েছে করপোরেট কর হার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এবং এর বাইরে থাকা ব্যাংকগুলোর। তবে ব্যাংক খাতের বিশ্লেষকরা বলছেন, এতে গ্রাহকরা কোন সুবিধা পাবেন না। কমবে না সুদের হারও। তাদের দাবি, বাজেটে সুবিধা না বাড়িয়ে বরং ব্যাংকের অর্থ কেলেঙ্কারি সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির মুখোমুখি করা জরুরি। এতেই ফিরবে ব্যাংক খাতের শৃঙ্খলা।

বাজেটে পুঁজিবাজার তালিকাভুক্ত বেসরকারি ব্যাংকের করপোরেট কর সাড়ে ৪২ শতাংশ থেকে কমিয়ে করা হয়েছে ৪০ শতাংশ এছাড়া পুঁজিবাজারে তালিকভুক্ত নয়, এমন ব্যাংকের করহার ৪০ শতাংশ নামিয়ে আনা হয়েছে সাড়ে ৩৭ শতাংশে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, ব্যাংক খাতের মালিকরা গত কয়েক মাসে সরকারের থেকে অনেক অনৈতিক সুবিধা অর্জন করেছে। তাদের আবার এভাবে ২ দশমিক ৫ শতাংশ কর অব্যহতি দিয়ে অন্যান্য ক্ষেত্রে শত শত যে ব্যবসা আছে, বডি আছে, তাদের সঙ্গে বৈষম্য করা হলো। এই বৈষম্যটা দুর্নীতিকে প্রভাবিত করবে। কারণ সুবিধাটা দুর্নীতিবাজদেরকেই দেয়া হলো।

‘সুদের হার কমানো হবে’, বেসরকারি ব্যাংক মালিকের এমন আশ্বাসে বাজেটে অর্থমন্ত্রী এ সুবিধা ঘোষণা দিলেও বিশ্লেষকরা বলছেন ভিন্ন কথা। অর্থনীতিবিদ ড. মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ব্যাংকগুলো যতক্ষণ পর্যন্ত ঋণ দিতে পারবে ততক্ষণ পর্যন্ত সুদের হার কমবে না। কর কমালে যে সুদের হার কমবে এটার ভিত্তিটা কী- প্রশ্ন করেন তিনি। ইব্রাহিম খালেদ বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, আপনারা যা চেয়েছিলেন তাই দিলাম, কিন্তু সুদের হার কমান।

“কিন্তু সুদের হার কি কমেছে? কাজেই অর্থমন্ত্রী বললেও কমবে না। কারণ আড়াই শতাংশ ছাড় দেয়ার ক্ষেত্রে মালিকরা কিছু লভ্যাংশ বেশি পাবেন। এটা ছাড়া তো কিছু না। সুদের হার নির্ভর করবে তো ডিমান্ড-সাপ্লাইয়ের ওপরে। এতে ডিমান্ড কমার কোনো সুযোগ তো নেই” তিনি বলেন, আমি জানি না, অর্থমন্ত্রী কিসের ওপর ভিত্তি করে বলেছেন, সুদের হার কমবে? আমার হিসাবে সুদের হার কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। আর ব্যাবসায়ীরা বলছেন, সুদের হার কমিয়ে আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যকর ভুমিকা রাখতে হবে।

বাংলাদেশ প্লাস্টিক পণ্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিপিজিএমইএ) সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সুদের হার ফিক্সড করে দেয়া উচিত। সরকার সুদের হার কমানোর জন্য ব্যাংকারদের অনেক ছাড় দিয়েছেন। এখন সরকারের উচিত এটা আদায় করে নেয়া। বিশ্লেষকদের পরামর্শ, ব্যাংক খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে বার বার সুবিধা না দিয়ে, দোষীদের সনাক্ত ও শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি ঋণ ও আমানতের সুদের হার চার শতাংশের মধ্যে রাখা।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
সংবাদ প্রতিনিধি

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।