প্রাথমিক শিক্ষকদের ভ্রমন ভাতা উত্তোলনে অনিয়মের অভিযোগ

যশোর প্রতিনিধিঃ যশোরে প্রধান শিক্ষকদের ভ্রমন ভাতা আত্বস্বাতের অভিযোগ উঠেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির শীর্ষ দু’নেতার বিরুদ্ধে। একাধিক শিক্ষকের স্বাক্ষর জালিয়াতি ও ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে ওই টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এর সাথে সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও সহকারী হিসাব রক্ষকের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানালেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।

একাধিক সুত্রে জানা যায়, যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও বাজুয়াডাঙ্গা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মাসুদুর রহমান এবং সমিতির সাধারন সম্পাদক ও রামনগর স্কুলের প্রধান শিক্ষক গাজী শহিদুল ইসলাম নানা অপরাধমুলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েছেন। দীর্ঘ যাবত শিক্ষক সমিতির শীর্ষ পদের থাকার সুবাদে তারা ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করছেন। ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙ্গিয়ে তারা শিক্ষা অফিসারদের কাছ থেকে নানা সুযোগ সুবিধা আদায় করে যাচ্ছেন। চলতি বছরে এই দু’ শিক্ষক নেতা ৯ বার ভ্রমন ভাতা উত্তোলন করেছেন। নিয়ম হচ্ছে, স্কুলের প্রধান শিক্ষকরা অফিসিয়াল কোন কাজের জন্য শুধুমাত্র উপজেলা শিক্ষা অফিসে  যাতাযাত করলে তার বিল  ভ্রমন ভাতা হিসেবে পরিগনিত হয়। সেক্ষেত্রে স্কুল হতে শিক্ষা অফিস ৮০ কিলোমিটার দুরত্ব হতে হবে।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি শিক্ষক সমিতির ওই দু’নেতা ৯ জন শিক্ষকের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে এককালীন ২৯ হাজার ৪শ ৪০ টাকা উত্তোলন করেন। যার সহযোগিতা করেছেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার জামাল  হোসেন ও কম্পিউটার অপারেটর গোলাম মোস্তফা। সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসের ওই ৯ জন শিক্ষকের নাম উল্লেখ নেই। শুধুমাত্র ৯ জন শিক্ষকের ভ্রমন ভাতা উল্লেখ করা হয়েছে। কোন শিক্ষক তাতে স্বাক্ষর করেনি। শীর্ষ দু’নেতা তাদের নাম বসিয়ে ওই বিল উত্তোলন করেছেন। ওই  জন শিক্ষক কারা তার সুদুত্ত মিলছে না।

সুত্র বলছে, শিক্ষক সমিতির সভাপতি মাসুদুর রহমান একাই ৭ কিস্তিতে ২৮ হাজার ৬শ ৩০ টাকা ভ্রমন ভাতা উত্তোলন করেছেন। তার স্কুল বাজুয়াডাঙ্গা হতে  সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসের দুরত্ব মাত্র ৮ কিলোমিটার। কিন্তু তার পরও মোটা অংঙ্কের অর্থ তার নামে পাশ হওয়ায় খোদ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সুত্র বলছে,যশোর সদর উপজেলা ২৫২ টি প্রাথমিক স্কুলের মধ্যে ৪৬টি স্কুলের প্রধান শিক্ষকেরা ভ্রমন ভাতা উত্তোলন করেছেন। চুপিসারে তাদের জানানো হলেও বাকি স্কুলের শিক্ষকদের ভ্রমন ভাতার জন্য কখন আবেদন করতে হবে তাদের জানানো হয়নি। একইভাবে শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক গাজী শহিদুল ইসলাম ২ কিস্তিতে ৬ হাজার ৫শ ২০ টাকা উত্তোলন করেছেন। এছাড়া কয়েকজন একাধিকবার ভুয়া ভাউচার তৈরি করে ভ্রমন ভাতা উত্তোলন করেছেন। স্কুলের দুরত্ব হতে শিক্ষা অফিসারে দুরুত্ব অনুযায়ী অবিশ্বাস্য বিল করে ভ্রমন ভাতা দেখানো হয়েছে।

সুত্র বলছে, উপজেলা শিক্ষা অফিসার বিভিন্ন সময় মাসুদুর রহমানকে ঢাকায় পাঠিয়ে নীতিমালা উপেক্ষা করে তা ভ্রমন ভাতা হিসাবে তা পাশ করিয়ে দিয়েছেন। এতে অন্যান্য স্কুলে শিক্ষকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে  যোগাযোগ করা হলে জেলা পাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মাসুদুর রহমান জানান, ভ্রমন ভাতা বাবদ তারা উপজেলা শিক্ষা অফিসে বিল সাবমিট করে। সেখান থেকে তা অনুমোদন করা হয়। এখানে তাদের কোন হাত নেই।

শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক গাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, নিয়ম অনুযায়ী তিনি ভ্রমন ভাতা উত্তোলন করেছেন। কোন জালিয়াতি করা হয়নি। সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার জামাল হোসেন অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন শিক্ষকদের আবেদনের পেক্ষিতে ভ্রমন ভাতা পাশ করানো হয়েছে। যারা আবেদন করেনি তারা ভাতা পাননি। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তাপস কুমার অধিকারী বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। ঘটনাটি সত্য কিনা তা যাচাই করা হচ্ছে। অনিয়ম হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
সংবাদ প্রতিনিধি

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।