পাটকেলঘাটার ৭৯ শহীদের গণকবর আজও অসংরক্ষিত

এস.এম মফিদুল ইসলাম, পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি ॥ স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা দিয়েছিল বুকের তাজা রক্ত, দিয়েছিল জীবন, পাক হানাদার বাহিনীর নির্মম নির্যাতন চালিয়ে ১৯৭১ সালে ২৩ এপ্রিল হত্যা করেছিলো ৭৯ জন নিরস্ত্র বাঙ্গালীকে। হত্যার পর তাদেরকে একই কবরে মাটি চাপা দিয়েছিল পাকহানাদাররা। কালের স্বাক্ষী বাঙালী জাতির অমর স্মৃতি পাটকেলঘাটার পার কুমিরা গণকবরটি আজও অসংরক্ষিত রয়েছে।

১৯৭১ সালের ২৩ এপ্রিল ছিল শুক্রবার। এই দিনে পাক হানাদার বাহিনী নির্মম নির্যাতন চালিয়ে এক সাথে ৭৯ জন নিরস্ত্র বাঙালীকে হত্যা করেছিল। ইতোমধ্যে স্বাধীনতা অর্জনের ৪৬ বছর পদার্পণ করেছে। কিন্তু স্বাধীনতা যুদ্ধের অমর স্মৃতি রক্ষনাবেক্ষণের ব্যবস্থা হয়নি আজও। অরক্ষিত রয়েগেছে পারকুমিরার গণকবরটি। স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকহানাদার বাহিনীর নির্যাতনের কথা আজও আবাল-বৃদ্ধ-বণিতার মুখে মুখে। যে উদ্দেশ্যে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল, সে উদ্দেশ্য আজ সফলতার মুখ দেখছে। মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তি রাজাকার গোষ্টী বাংলার মাটি থেকে অনেকটাই আজ নিশ্চিহ্ন হয়েগেছে বা যাচ্ছে। আজ ৭১ এর রনাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের সূর্য সন্তান হিসেবে বর্তমান প্রজন্ম গর্বিত ভাবে সম্মান করে। বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে চলেছে।

তবে তপ্ত বুলেটের আঘাতে রক্তে লটিত শহীদদের স্মৃতি কেন রক্ষনাবেক্ষন হচ্ছে না এটি সাধারণ জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য মতে, স্বাধীনতা যুদ্ধে ৭৯ শহীদের গণকবর রক্ষণাবেক্ষণ না হলে ধীরে ধীরে নিশ্চিন্ন হয়ে যাবে জায়গাটি। তবে ১৯৯২ সালে ২৪ মে বঙ্গবন্ধু কন্যা বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বধ্য ভূমিতে পারেখে শহীদদের প্রতি বিন¤্র শ্রদ্ধা শেষে একটি স্মৃতি ফলক উম্মোচন করেন। সেই ফলকটিও আজও বিবর্ণ হয়ে অনেকটাই বিলীনের পথে। তালা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মফিজউদ্দীন জানান, পাকহানাদার বাহিনী পরিকল্পিত ভাবে হামলা করে ৭৯ জনকে গণহত্যা করে। তাদের গণকবটি আজও রক্ষিত হয়নি। তবে সম্প্রতি ঢাকায় গিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করা হয়েছে।

তালা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ নূরুল ইসলাম জনান, তার বাবা ও বড় ভাই মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। ১৯৭১ সালের ২৩ এপ্রিল পরিকল্পিত ভাবে তার বাবা-ভাই ও চাচা সহ ৭৯ জন নিরস্ত্র বাঙ্গালীকে পারকুমিরায় হত্যা করা হয়। তিনি বলেন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান হিসেবে রক্ষনাবেক্ষণে আন্তরিকতার অভাব নেই। ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী দপ্তর (এলজিইডি) এর আওতায় প্রায় কোটি টাকা মূল্যে স্মৃতিসৌধের অনুমোদন হলেও মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে টাকা না থাকায় বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।