আজ ১২ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা দিবস। উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময় এবং অভিন্ন উন্নয়ন লক্ষ্যে অংশীদারিত্ব জোরদারের গুরুত্ব তুলে ধরতে প্রতি বছর দিবসটি পালিত হয়।
এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য “উত্থিত সংহতি: অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উদ্ভাবনী উন্নয়নের জন্য বৈশ্বিক জোট”। এবারের প্রতিপাদ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে সংহতি বাড়ানো এবং উদ্ভাবন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নকে আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
টেকসই উন্নয়নে অংশীদারিত্বের আহ্বান
আন্তর্জাতিক দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার সুফল ইতোমধ্যে দৃশ্যমান। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কৃষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, পরিবেশবান্ধব জ্বালানির সুযোগ সম্প্রসারণ এবং মহামারির সময় স্বাস্থ্যকর্মীদের দ্রুত সাড়া দেওয়ার মতো ক্ষেত্রে এ ধরনের সহযোগিতা ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।
নতুন বৈশ্বিক জোটের সম্ভাবনা
জাতিসংঘ মহাসচিবের বাণীতে গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর সাউথ-সাউথ অ্যান্ড ট্রায়াঙ্গুলার কোঅপারেশন-এর উদ্যোগকে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ বিশ্ব প্রাথমিক চিকিৎসা দিবস আজ: জীবন বাঁচাতে প্রাথমিক চিকিৎসা কেন গুরুত্বপূর্ণ
এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার, উন্নয়ন ব্যাংক, শিক্ষাবিদ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি খাতকে একই সহযোগিতামূলক কাঠামোর আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। এর ফলে জাতীয় উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে অর্থায়ন, দক্ষতা ও উদ্ভাবনকে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এর মাধ্যমে নতুন ধারণাকে বাস্তব প্রকল্পে রূপ দেওয়া, বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানো এবং উন্নয়নমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিভিন্ন পক্ষের সক্ষমতা একত্রিত করার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
উত্তর-দক্ষিণ সহযোগিতাও জরুরি
জাতিসংঘ মহাসচিব একই সঙ্গে সতর্ক করেছেন, গ্লোবাল সাউথের অগ্রগতি উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে উত্তর-দক্ষিণ সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা কমায় না। বরং বৈশ্বিক বৈষম্য কমানো এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে আরও কার্যকর অংশীদারিত্ব প্রয়োজন।
বিশ্বজুড়ে সংঘাত, বৈষম্য ও বিভাজনের সময়ে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংহতি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা বৈশ্বিক সংহতি পুনর্গঠনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা কী?
দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা বলতে মূলত উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে অভিজ্ঞতা, জ্ঞান, প্রযুক্তি, দক্ষতা, সম্পদ ও সক্ষমতা বিনিময়ের মাধ্যমে অভিন্ন উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনের প্রচেষ্টাকে বোঝায়।
আরও পড়ুনঃ বিশ্ব মনোসংযোগ দিবস আজ: মানসিক প্রশান্তিতে মাইন্ডফুলনেসের গুরুত্ব
এর মাধ্যমে কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তি, জ্বালানি, অবকাঠামো ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এক দেশ অন্য দেশের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা থেকে উপকৃত হতে পারে।
বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও উদ্ভাবনকে কাজে লাগিয়ে তুলনামূলক কম খরচে কার্যকর উন্নয়ন মডেল তৈরি করার ক্ষেত্রেও দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বৈশ্বিক সংহতির আহ্বান
আন্তর্জাতিক দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা দিবসের মূল বার্তা হলো—উন্নয়নকে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে এককভাবে কোনো দেশের প্রচেষ্টাই যথেষ্ট নয়। পারস্পরিক সহযোগিতা, জ্ঞান বিনিময়, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলো নিজেদের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে পারে।
বৈশ্বিক বিভাজন ও সংঘাতের সময়ে সমতা, শান্তি ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে সীমান্তের বাধা অতিক্রম করে দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বানই দিবসটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।



