আমেরিকার মতো দেশে তিন ব্যাংক ফেল করছে। এতে বোঝা যায়, পৃথিবীর অর্থনীতি কোনদিকে যাচ্ছে। পশ্চিমা অর্থনীতির বিবেচনায় আমরা অনেক ভালো অবস্থানে আছি। একথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
বৃহস্পতিবার দাতা সংস্থা জাপান সাহায্য সংস্থার (জাইকা) নির্বাহী সিনিয়র প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সংকট বেড়েই চলছিল। কতদিনে তা থামবে, সেটি অনিশ্চিত ছিল। এই ভয় থেকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ঋণ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ঋণের অঙ্ক আমাদের দুমাসের রেমিট্যান্সের সমান। এটি খুব সহজে পরিশোধ করা সম্ভব।
বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাইকার অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলো দ্রুত শেষ করতে বলেছে সংস্থাটি।পাশাপাশি প্রকল্পের অগ্রগতিও জানতে চেয়েছে। আমরা বলেছি, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের অগ্রগতি ৯৫ শতাংশ হয়েছে। বাকি ৫ শতাংশ দ্রুত শেষ হবে। এরপর সেটি চালু করা হবে।
জাইকার অর্থায়নে ৩৩টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৭২ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাইকা দিচ্ছে ২ লাখ ১ হাজার ৭৯৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয়ের ৭৪ শতাংশের বেশি দিচ্ছে জাইকা। আর ২০২২ সালের জুন নাগাদ বাংলাদেশকে দেওয়া জাইকার মোট ঋণের পরিমাণ ৯ বিলিয়ন ডলার।এই ঋণের প্রকল্প কাজের অগ্রগতি দেখতে জাইকার নির্বাহী সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়ামাদা জুনিছিরের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করছে।
সাংবাদিকরা জানতে চান-যেহেতু ভালো আছি, তাহলে কি আইএমএফ-এর ঋণ বাতিল করা হবে? জবাবে মন্ত্রী বলেন, আইএমএফ যে ঋণ দিয়েছে সেটি আমাদের দুমাসের রেমিট্যান্সের সমান৷ এটি সহজেই পরিশোধ করা সম্ভব।
তাহলে কি আমাদের ঋণের প্রয়োজন ছিল-এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ কতদিনে থামবে, সেটি অনিশ্চিত ছিল। যেভাবে আমাদের সংকট তৈরি হয়, আমদানিতে অনেক ডলার যাচ্ছে, এতে আমরা ভয় পেয়েছিলাম। পরিস্থিতি কোনদিকে যাবে বুঝতে পারিনি৷ এজন্য ঋণ নেওয়া হয়েছে। এখন ভয় কেটে গেছে।
১০ শতাংশ মূল্যস্ফীতির বিষয়টি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা ক্ষমতায় আসার প্রথমদিকে মূল্যস্ফীতি পেয়েছি ১২ দশমিক ৩০ শতাংশ। যে মূল্যস্ফীতির হার নিয়ে আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনা শুরু, যা করেছি, এখন তার থেকে বাড়েনি।
তাহলে কি মূল্যস্ফীতি সহনীয় আছে-জবাবে মন্ত্রী বলেন, মূল্যস্ফীতি অতিক্রম করতে হলে যাদের কাছে খাবার নেই, তাদের খাবার দিতে হবে, সেটি করছি। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ১ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছি। মানুষ কিন্তু না খেয়ে নেই। কাঁচামরিচের আকাশছোঁয়া দাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি মৌসুমি পণ্য, মৌসুমে উৎপাদন হয়৷ তাই আগ্রহ নিয়ে সবার মরিচ গাছ লাগানো দরকার।