পাইকগাছার কড়ুলিয়া-লস্কর সেতুর কাজ ৭৬ শতাংশ, বাড়ছে মেয়াদ

পাইকগাছার কড়ুলিয়া-লস্কর সেতুর কাজ ৭৬ শতাংশ, বাড়ছে মেয়াদ
পাইকগাছার কড়ুলিয়া-লস্কর সেতুর কাজ ৭৬ শতাংশ, বাড়ছে মেয়াদ

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কড়ুলিয়া এলাকায় শিবসা নদীর ওপর নির্মাণাধীন কড়ুলিয়া-লস্কর সেতুর কাজ প্রায় ৭৬ শতাংশ শেষ হয়েছে। ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য ৭৪৮ মিটার দীর্ঘ এ সেতুটি চালু হলে পাইকগাছাসহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলার সঙ্গে খুলনা শহরের যোগাযোগ আরও সহজ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পাইকগাছা জিসি-লস্কর বাজার, বাইনতলা, বগুড়ারচক, শুঁড়িখালী, ভান্ডারপোল ও গিলাবাড়ী জিসি সড়কের ২ হাজার ৩০০ মিটার চেইনেজে লস্কর ও গড়ইখালী ইউনিয়নের কড়ুলিয়া গ্রামের মধ্য দিয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। সেতুটির দৈর্ঘ্য প্রায় পৌনে এক কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৯ দশমিক ৮ মিটার।

ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড (এনডিই) ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু করে। ইতোমধ্যে সেতুটির ২৪০টি পাইলের সবকটির কাজ শেষ হয়েছে। দুই প্রান্তে প্রায় ২ দশমিক ৭১ একর জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং সেগুলো পরিদর্শনও করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মূল চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো কাজ শেষ করা সম্ভব না হওয়ায় আরও ছয় মাস সময় বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে দ্রুত কাজ শেষ করে চলতি বছরের শেষ নাগাদ সেতুটি নির্মাণ সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।

সেতুটি চালু হলে পাইকগাছার পাশাপাশি কয়রা, দাকোপ, বটিয়াঘাটা, তেরখাদা এবং সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার মানুষ খুলনা শহরের সঙ্গে তুলনামূলক দ্রুত যোগাযোগের সুযোগ পাবেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বর্তমানে চিকিৎসা ও জরুরি প্রয়োজনে খুলনা যেতে তাদের দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম ও ব্যবসায়ী শাহিন গোলদার বলেন, ভাটার সময় নদীর পানি কমে গেলেও যাতায়াতের জন্য তাদের বাড়তি পথ ব্যবহার করতে হয়। সেতুটি চালু হলে এ ভোগান্তি কমবে। ব্যবসায়ী সোলাইমান গাজীও দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানিয়ে বলেন, সেতু চালু হলে মাছের ঘেরসহ স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবহন ব্যবস্থা সহজ হবে।

তবে নির্মাণকাজকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে কিছু অভিযোগও রয়েছে। লস্কর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের অভিযোগ, নির্মাণসামগ্রী বহনকারী ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁর দাবি, বাইনতলা বাজারের সংযোগ সড়ক সামান্য বৃষ্টিতেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

এ ছাড়া গিলাবাড়ীর পরিবর্তে গড়ইখালীর সঙ্গে সংযোগ সড়ক হওয়ায় লস্কর এলাকার মানুষ প্রত্যাশিত সুফল থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলেও স্থানীয়দের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন। সচেতন মহলের একটি অংশের আশঙ্কা, পাইকগাছায় একাধিক সেতু নির্মাণের কারণে নদীতে পলি জমে নাব্যতা কমতে পারে এবং ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা বা বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা এসব বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। প্রকল্প ব্যবস্থাপক সাহেব আলী জানান, ইতোমধ্যে ৭৬ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে এবং নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।

উপজেলা প্রকৌশলী শাফীন সোহেব ও উপসহকারী প্রকৌশলী সজল বিশ্বাস জানান, চলতি বছরের শেষ নাগাদ কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। লস্কর প্রান্তে তিন রাস্তার মোড়ে একটি গোলচত্বর নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে, যা যান চলাচল সহজ করতে ভূমিকা রাখবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, একাধিক উপজেলার মানুষের যোগাযোগ সুবিধা বাড়াবে এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেতুটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

‎ইমদাদুল হক

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।