কালকিনিতে থানার ১০০ গজের মধ্যে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মার্কেট এবং বাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগ

কালকিনিতে থানার ১০০ গজের মধ্যে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মার্কেট এবং বাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগ
কালকিনিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য

মাদারীপুরের কালকিনিতে থানার ১০০ গজের মধ্যে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মার্কেট এবং বাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে কালকিনি থানার ১০০ গজের মধ্যে, কালকিনি ফাজিল মাদ্রাসা এবং সদর প্রাথমিক বিদ্যালয় লাগোয়া দক্ষিণ পাশে মৃত লাল মিয়া সরদারের পৈতৃক সম্পত্তিতে।

মামলার সূত্রে জানা যায়, বিআরএস খতিয়ান নং ৫১৯ চর ঠেঙ্গামারা মৌজায় ৩ ও ৪ নং দাগে মৃত আব্দুল সামাদ সরদারের পাঁচপুত্র এবং চার কন্যা রেকর্ডিও মালিক। উল্লেখ্য, আব্দুস সামাদ সরদারের দুই স্ত্রী ছিল তারা তাদের বড় পুত্র লাল মিয়া সরদার (আব্দুস সালাম) কে তাদের প্রাপ্ত সম্পদ দলিল করিয়া দেন।

রেকর্ড অনুসারে তারা যার যার সম্পদ ভোগ করছে। গত ১৭ই জুন ২০২৫ তারিখে দলিল নং ৩৩৮০/২০২৫ বিআরএস রেকর্ডীয় মালিক ফাতেমা খাতুন এর ওয়ারিশগণ আব্দুল আলীম এর কাছে তাদের প্রাপ্ত ৮.৬৫ শতাংশ সম্পত্তি বিক্রয় করেন।উল্লেখিত জমিটি হস্তান্তরের সময় চলমান একটি চৌহদ্দি নির্ধারণের মামলা ছিল যার নম্বর ৩৪৬/২০২০

এরপর বিআরএস রেকর্ডিও মালিক লাল মিয়া সরদারের পুত্রগণ মুসলিম আইনের বিধান মতে ভূমি অগ্রক্রয়ের মোকাদ্দমা দাখিল করেন যাহার দেওয়ানী মোকাদ্দাম নং ১০৩/২০২।

ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেন ভূমি অগ্রক্রয়ের মামলা দায়ের করার পর থেকেই সাইদুল কবির গংদের ওপর নানা প্রকার হুমকি ধামকি দিয়ে আসছিল তাদের প্রতিপক্ষের লোকজন। এমনকি ১৪৫ ধারা জারির পরও চলমান একটি মার্কেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত ২৩ই মে ২০২৬ তারিখে উক্ত সম্পত্তির উপর স্থিতি অবস্থা জারির নিমিত্তে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৫ ধারা জারি করার আবেদন করা হয় মাদারীপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে। যাহার পিটিশন নাম্বার ৬১৯/২৬ উক্ত পিটিশনের এক আদেশে ১৫ ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট একটি আদেশ দেন, আদেশে নালিশি ভূমিতে স্থিতি অবস্থা বজায় রাখার জন্য উভয়পক্ষকে বলা হয়েছে এবং এই আদেশ প্রতিপালনে সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে বলা হয়েছে। এছাড়াও পিটিশন চলাকালীন সময়ে এসিল্যান্ড কালকিনিকে তদন্তের জন্য বলা হলে তদন্ত রিপোর্টে দেখা যায় বাদী সাইদুল কবির গং নালিশি ভূমিতে দখলে রয়েছেন বলে রিপোর্ট প্রদান করেছেন এসিল্যান্ড অফিস কালকিনি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় দুই যুগ পূর্বে সাইদুল কবির গংদের নির্মিত মার্কেটটির সাটারের সম্মুখে ইটের স্তূপ ফেলে রেখে দোকান গুলো খুলতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। এতে করে দোকানের ব্যবসায়ীরা বিপুল পরিমাণ লোকসানের মুখে পড়েছেন। এছাড়াও দোকানের মধ্যে যে সকল মালামাল রয়েছে তা নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে ব্যবসায়ীদের কয়েকজনের সাথে কথা বললে তারা বলেন, আব্দুল আলীম নামে এক ব্যক্তি উক্ত দাগ সমূহে জায়গা ক্রয়ের পর, কিছুদিন পূর্বে রাতের আঁধারে দোকানের সামনে ইটের স্তূপ গুলো তৈরি করেছেন। যাতে করে আমরা দোকান খুলতে না পারি। এখন জায়গা জমি সংক্রান্ত ঝামেলার বলি হচ্ছি আমরা সাধারণ ব্যবসায়ীরা।

আমাদের প্রায় কোটি টাকার মালামাল ধুলিস্যাৎ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এছাড়া আমাদের দোকানের মধ্যে গ্যাস সিলেন্ডারের স্তুপ রয়েছে যদি এগুলোকে যথাযথভাবে তত্ত্বাবধান না করা যায় যে কোন সময় ঘটতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা। তাই আমরা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি যাতে করে এই সমস্যার সমাধান হয়। এবং আমরা নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারি।

মার্কেট মালিক সাইদুল কবির গং দের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল তাই তো আমরা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। আমাদের উপর অতীতে অনেকবার হামলা মামলা হয়েছে। আমরা নিরীহ বিধায় এর প্রতিকার করতে পারিনি, তাই তো আদালতের উপর আমাদের ভরসা আছে।

এ ব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত আব্দুল আলীম এর কাছে ফোন করা হলে তিনি বলেন, মূল মালিক যাদের থেকে আমি জায়গা ক্রয় করেছি তারা আমাকে জায়গা বুঝিয়ে দিয়েছে পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তা ভিত্তিহীন উল্টো প্রতিপক্ষ আমার তালা দেওয়া দোকান, তালা ভেঙে খোলার চেষ্টা করেছে দুই দিন আগে।

এ ব্যাপারে জানতে কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) জহিরুল আলমের কাছে থানার ১০০ গজের মধ্যে আদালত অবমাননার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমরা শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য কাজ করে যাচ্ছি গত পরশুদিন আমি ঘটনার স্থলে উপস্থিত হয়ে দোকান বন্ধ রাখার জন্য বলেছি, এক্ষেত্রে সাংবাদিক প্রশ্ন করলে একটি চলমান দোকান আদালতের স্থিতি অবস্থা জারির পর বন্ধ করা যায় কিনা? তিনি বলেন কোর্ট থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসে যদি আমাদেরকে দোকান খুলে দিতে বলেন আমরা খুলে দিব।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

রফিকুল ইসলাম মিন্টু মাদারীপুর প্রতিনিধি

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।