নাব্যতা সংকট, ঈদে ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগের আশংকা

মেহেদী হাসান সোহাগ-মাদারীপুর: পানি বাড়লে স্রোতের তীব্রতা আর পানি কমলে ডুবোচর জেগে উঠা এই দুই দূর্ভোগের কবল থেকে রেহাই পাচ্ছে না দক্ষিণাঞ্চলের সাধারণ যাত্রীরা। তীব্র স্রোত ও ডুবোচর জেগে উঠলে ফেরি চলাচল ব্যহতসহ কখনো বন্ধও রাখতে হয় কর্তৃপক্ষের। আর এই সময়টায় দেখা দেয় তীব্র জনদূর্ভোগ।
বর্ষা মৌমুসের স্রোতের তীব্রতায় নৌযান চলাচল ব্যহত হওয়ার দূর্ভোগ কাটতে না কাটতেই এখন আবার দেখা দিয়েছে নাব্যতা সংকট। কাওড়াকান্দি ঘাট থেকে মূল পদ্মা নদীতে প্রবেশ পথের চ্যানেল মুখে ডুবোচর জেগে উঠায় ফেরি চলাচল হুমকির মুখে পরেছে। পানি কম থাকায় গত দুই সপ্তাহ পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হয়েছে রোরো ফেরি চলাচল।

এদিকে নৌপথ সচল রাখতে নাব্যতা সংকটের প্রথম থেকেই খননকাজ অব্যাহত থাকলেও তেমন কোন সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। খননের মাধ্যমে অপসারনকৃত পলিমাটিগুলো নদীর উজানে ফেলায় ¯্রােতের চাপে তা আবার চ্যানেলমুখেই এসে পরছে বলে অভিযোগ করছেন এ রুটে চলাচলরত নৌযানের চালকেরা। ফলে নাব্যতা সংকট নিরসন হচ্ছে না। ফলে মাঝে মাঝেই ফেরিগুলোকে আটকে যেতে হচ্ছে ডুবোচরে। তাই ধারণ ক্ষমতার অর্ধেক যানবাহন নিয়ে পারি দিতে হচ্ছে পদ্মা। আরা কাওড়াকান্দি-শিমুলিয়া উভয় ঘাটে এসে দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের। আসন্ন ঈদে এ নিয়ে চরম দুর্ভোগ দেখা দিতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করছে যাত্রীরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মূল পদ্মায় প্রবেশ দ্বার লৌহজং টার্নিং পয়েণ্টে নাব্যতা সংকট প্রকট আকার দেখা দিয়েছে। ক’দিন পূর্বেও নাব্যতা সংকটের কারণে বন্ধ ছিল রোরো ফেরি চলাচল। গত দুই দিন ধরে রোরো ফেরি চললেও ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অর্ধেক যানবাহন নিয়ে পদ্মা পাড়ি দিতে হয় ফেরিগুলোকে।
এ উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিআইডব্লিউটিএ’র ৬টি সহ মোট  ৯টি খননযন্ত্র খননকাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে বিআইডব্লিউটিএ’র একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তারপরও নাব্যতা সংকট নিরসনে হিমশিম থেকে হচ্ছে কর্তৃপক্ষের।

বর্তমানে নাব্যতা সংকটের কারণে দূর্ঘটনা এড়াতে সন্ধ্যার পর বন্ধ রাখতে হচ্ছে ৪টি রোরো ও ৭টি ডাম্প ফেরি। চ্যানেল অতিক্রম করতে গিয়ে ফেরির তলদেশ ডুবোচর ঠেকে যাওয়া রাতে চলাচল বন্ধ রাখা হয় এ ফেরিগুলোর। আর তাই প্রতিদিনই বাড়ছে ঘাটের যানজটের পরিমান। যা আসন্ন ঈদে প্রকট আকার ধারণ করতে পারে বলে আশংকা করছেন কাওড়াকান্দি ঘাট সংশ্লিষ্টরা।
এ নৌরুটে চলাচলকারী ছোট ছোট নৌযানের চালক ও স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বললে তারা জানায়, খননযন্ত্রগুলো ঠিকমত মাটি কাটছে না। বেশির ভাগ সময় চালু থাকলেও পাইপ দিয়ে বালু পরতে দেখা যাচ্ছে না।

ডাম্ব ফেরি টাপলোর মাস্টার ইনচার্জ জামশেদ আলী জানান , নদীর লৌহজং টার্নিংয়ে দ্রুত গতিতে পলি পড়ে ডুবোচর তৈরি হয়ে নৌচ্যানেল সরু হয়ে পড়ছে। ফেরির তলদেশ ডুবচরে ঘষে ঘষে চলার কারনে যন্ত্রাংশে বালু ঢুকে ফেরির ক্ষতি হচ্ছে। দিনের বেলা কোন রকম চলতে পারলেও রাতে কোন ভাবেই সরু চ্যানেল দিয়ে চলা যাচ্ছে না ।

বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজার ১৩৯ এর চালক রেজাউল করিম জানান , নদীতে পানি কম ও প্রচন্ড স্রোত থাকার কারনে আমাদের ড্রেজিং কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে । ফলে সঠিকভাবে বালু অপসারন করা যাচ্ছে না ।

বিআইডব্লিউটিসি’র কাওড়াকান্দি ঘাটের ব্যবস্থাপক আব্দুস সালাম বলেন , ‘নাব্যতা সংকট নিরসনের লক্ষ্যে আমাদের মেরিন বিভাগ বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং বিভাগের সাথে আলোচনা করেছে। তাছাড়া ড্রেজিং কার্যক্রমও চলছে। আশা করা হচ্ছে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।