দুর্গা পূজায় দুর্গতি নাশ হয়নি, আল্লাহর আনুগত্যেই শান্তি -হেযবুত তওহীদের ইমাম

দুর্গা পূজায় দুর্গতি নাশ হয়নি, আল্লাহর আনুগত্যেই শান্তি -হেযবুত তওহীদের ইমাম

সনাতনধর্মের অনুসারীরা মনে করেন দুর্গা দুর্গতি নাশিনী, তাই মা দুর্গার পূজা করলে দুর্গতি নাশ করে দিবো। আসলে কি দুর্গতিকে নাশ হইছে? সমাজে কখনো শান্তি আসছে? সমাজে শান্তি আনতে হলে আল্লাহর দেওয়া হুকুম কায়েম করতে হবে । আল্লাহর আনুগত্য ছাড়া শান্তি আসবে না । আমাদের মুসলমানদেরকেও বুঝতে হবে, হিন্দুদেরকেও বুঝতে হবে। বলেছেন হেযবুত তওহীদের বর্তমান ইমাম ও সংগঠনটির শীর্ষ নেতা ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম।

সম্প্রতি দুর্গাপূজা প্রসঙ্গে দেওয়া এক বক্তব্যে ইমাম সেলিম এসব কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যে সনাতন ধর্মের অর্থ, দুর্গাপূজার তাৎপর্য, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার বিষয় উঠে আসে।

তিনি বলেন, সনাতন শব্দের অর্থ হচ্ছে চিরন্তন শাশ্বত চিরসত্য। সেটা কী? এটা এক ঈশ্বরবাদ। একজন ঈশ্বরের, একজন আল্লাহর হুকুমের আনুগত্য করা। এই পূজা উপলক্ষে আমি পূজারীদেরকে বলব, আসুন আমরা সত্যের পূজা করি। আসুন আমরা ন্যায়ের পূজা করি। এক ঈশ্বর, একজন ঈশ্বর, আপনারা বলেন ভগবান, তিনি যে বিধান পাঠিয়েছেন, সেই বিধানের আনুগত্য করি।

তিনি আরও বলেন, ভারতবর্ষে শতাধিক শত কোটি হিন্দু দাবি করেন বিভিন্ন পূজায় বিভিন্ন কাজ করেন । কিন্তু ঈশ্বরের মানে আল্লাহর হুকুম মানেন না । মানেন ওই ব্রিটিশ খ্রিস্টানেরাই । আমরাও তেমনি । তো কাজেই আমার দাবি হলো একটা শুধুমাত্র মন্দিরে গিয়ে পূজা করে শুধুমাত্র দুধ কলা দিয়ে পুরোহিত লালন পালন করে সমাজে শান্তি ন্যায় বিচার আসবে না ।

ইমাম সেলিম তাঁর ব্যাখ্যায়, সত্য ও ন্যায়ের পথে চলা এবং সৃষ্টিকর্তার বিধান অনুসরণ করার মধ্যেই মানুষের কল্যাণ নিহিত। তিনি পূজারীদের উদ্দেশে সত্য ও ন্যায়ের চর্চার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, সনাতনীদের পূজা করার উদ্দেশ্য হচ্ছে ওনারা স্বর্গে যাবেন । এই তো কথা? না রে ভাই, স্বর্গে যাওয়ার রাস্তা কিন্তু একটা, সিরাতুল মুস্তাকিম যেটা কুরানে বলা হয় । একমাত্র আল্লাহর আনুগত্য করা । এই শয়তান ইবলিসের বিরুদ্ধে একটা শান্তিপূর্ণ সমাজ মানুষজন দরজা করে ঘুমাতে পারে । এমন একটা ব্যবস্থা কায়েম করার মতো দিয়েই সত্যের পূজা, সত্যের আনুগত্য, সত্যের আরাধনা মিথ্যাকে প্রত্যাখ্যান । এটাই হবে আসল পূজা আমি মনে করি।

তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র মূর্তি পূজা করে সমাজে শান্তি আসবে না । সমাজে শান্তি আনতে হলে কী করতে হবে?  আল্লাহর দেওয়া হুকুম কায়েম করতে হবে । এবং এইটা সবাই মিলে এই সত্যটা ধারণ করতে হবে । এটা ধারণ করতে হবে । ঠিক আছে? মানে আল্লাহর আনুগত্য করতে হবে । আল্লাহর আনুগত্য ছাড়া শান্তি আসবে না । এই হচ্ছে ব্যাপারটা । আমাদের মুসলমানদেরকেও বুঝতে হবে, হিন্দুদেরকেও বুঝতে হবে ।

তিনি আরও বলেন, প্রত্যেক ধর্মের মানুষের নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের সুযোগ থাকা প্রয়োজন। দুর্গাপূজা যেন শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হয়, সে জন্য সরকারের প্রতি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা যেন নির্যাতন বা নিরাপত্তাহীনতার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলতে বাধ্য না হন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি পুনরায় বলেন, তাঁর দৃষ্টিতে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আল্লাহর আনুগত্য ও তাঁর বিধান অনুসরণ করা অপরিহার্য। একই সঙ্গে দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানান এবং তাঁদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

নিজস্ব প্রতিবেদক

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।