সৃজনশীল শিল্পকে দেশের মূলধারার অর্থনীতির অংশ হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি বিশ্বপরিসরে বাংলাদেশের ‘সফট পাওয়ার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, শিল্প-সংস্কৃতি, গ্রামীণ কারুশিল্প, সংগীত, চলচ্চিত্র ও থিয়েটারের মতো সৃজনশীল কর্মকাণ্ডকে অর্থনীতির মূল স্রোতে যুক্ত করা গেলে এগুলো দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির নতুন চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে এসব সাংস্কৃতিক উপাদান বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পরিচিতি ও প্রভাব বাড়াতেও ভূমিকা রাখবে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্রিয়েটিভ ফুটপ্রিন্টস’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রচলিত অর্থনৈতিক ধারণায় শিল্প ও সংস্কৃতিকে দীর্ঘদিন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের তুলনায় পিছিয়ে রাখা হয়েছে। বর্তমান সরকার সেই দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে সৃজনশীল অর্থনীতিকে দেশের প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করছে।
তিনি বলেন, শুধু সরকারি উদ্যোগে এই খাতকে কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব নয়। নীতিগত সহায়তা ও অর্থায়নের পাশাপাশি বেসরকারি খাত এবং এনজিওগুলোর সঙ্গে কার্যকর অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা হবে। সৃজনশীল শিল্পের বিকাশে ইতোমধ্যে বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং বেসরকারি খাত থেকেও বিনিয়োগের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
সৃজনশীল খাতকে এগিয়ে নিতে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, স্থানীয় কারুশিল্পী, চিত্রশিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের আর্থিক সহযোগিতার পাশাপাশি তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে। ডিজাইন, ব্র্যান্ডিং এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য পৌঁছানোর ক্ষেত্রেও সহায়তা দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, আমাজন, ইবে ও আলিবাবার মতো আন্তর্জাতিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দেশীয় কারুশিল্পীদের পণ্য বাজারজাত করার সুযোগ তৈরি করা হবে। এর ফলে প্রান্তিক পর্যায়ের শিল্পী ও কারুশিল্পীরা তাদের পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাওয়ার পাশাপাশি আয় ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে এ খাত থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সম্ভাবনাও তৈরি হবে।
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে সংস্কৃতির গুরুত্ব তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, সৃজনশীল শিল্প শুধু ব্যবসা বা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘সফট পাওয়ার’। সংগীত, থিয়েটার, চলচ্চিত্র ও হস্তশিল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশের সংস্কৃতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
অনুষ্ঠানের আয়োজক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনকে উদ্যোগটির জন্য ধন্যবাদ জানান অর্থমন্ত্রী। সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত প্রচেষ্টায় দেশে ভবিষ্যতে সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। এ ছাড়া বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের লিটু এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হক উপস্থিত ছিলেন।





