দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর ওপর দ্রুত প্রভাব হারাচ্ছে ভারত

দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর ওপর দ্রুত প্রভাব হারাচ্ছে ভারত
দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর ওপর দ্রুত প্রভাব হারাচ্ছে ভারত এবং সেখানে চীনের প্রভাব যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। চীনের সঙ্গে ভারত পেরে উঠছে না। জানিয়েছে ব্রিটিশ থিঙ্ক ট‍্যাঙ্ক ‘দি ইকোনমিস্ট’
‘দি ইকোনমিস্ট’- এর বিশ্লেষণের কিছু অংশ এখানে তুলে ধরছি : —
গত ১৮ মাসে মালদ্বীপ, নেপাল, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কায় ভারতপন্থী নেতারা ক্ষমতা হারিয়েছেন। বিশেষ করে বাংলাদেশ ক্রমশ চীনের দিকে ঝুঁকছে। এসব রাজনৈতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি রয়েছে নরেন্দ্র মোদির ঘনিষ্ঠ গৌতম আদানির বিরুদ্ধে আমেরিকার ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগ। যেখানে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোতে ভারতের প্রতিটি বড় প্রকল্পের কাজ দেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র আদানি গ্রুপকে।
দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ‘সুইং স্টেট’ বাংলাদেশ। কারণ, পাকিস্তান বহু আগেই চীন শিবিরে ঢুকে পড়েছে। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একনিষ্ঠ সমর্থক ছিল ভারত এবং তাদের যুক্তি ছিল, শেখ হাসিনা না থাকলে বাংলাদেশ কট্টর ইসলামপন্থীদের দখলে চলে যেতে পারে।
ক্ষণিকের জন্য ভারতের এই কৌশল কাজও করেছিল। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছিল। বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ালেও, উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়েছিল। এরপর, ২০২৪ সালের আগস্টে ভারতের কৌশল ব্যর্থ হয়।
শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেন। বাংলাদেশে ভারতবিরোধী মনোভাব এখন তুঙ্গে। ভারতের সরকার ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যম তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালিয়েছে যে, ‘হাসিনার পতন ঘটিয়েছে আমেরিকা’।
হাসিনা সরকারের পতন কেবল ভারতীয় গোয়েন্দা ব্যর্থতাই ছিল না, এটি অঞ্চলটির প্রতি ভারতের দৃষ্টিভঙ্গির ত্রুটিও প্রকাশ করে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বেশি নির্ভর করেছেন অর্থনৈতিক শক্তির ওপর। যেমন, ২০২২ সালে দেউলিয়া হওয়ার পরও শ্রীলঙ্কাকে ৪ বিলিয়ন ডলার (সফট লোন) সহায়তা দিয়েছিল ভারত। কিন্তু চীনের অতিকৌশলী বিনিয়োগের ফলে সেসব পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে বসেছে। পাশাপাশি ভারত প্রতিবেশীদের কঠোর শাস্তিও দিয়েছে ― যেমন ২০১৫ সালে নেপালের বিরুদ্ধে তারা অনানুষ্ঠানিক অবরোধ আরোপ করেছিল।
ড. মো. ইউনূস চার দিনের চীন সফরে প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংসহ উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা এবং বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখান থেকে ঋণ, অনুদান ও বিনিয়োগের বিপরীতে ২ দশমিক ১ বিনিয়োগ ডলারের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে বাংলাদেশ। পুরোনো ঋণগুলোর সুদ কমানোর ব্যাপারেও সম্মত হয়েছে চীন। মোংলা বন্দর উন্নয়নের বিষয়েও চূড়ান্ত আলোচনা হয়েছে। যেটা শেখ হাসিনার আমলে ভারত পেতে চেয়েছিল এবং মোংলা বন্দরের জন্য ভারতের পক্ষ থেকে দরপত্র দেওয়া হয়েছিল।
ভারতের এই দুর্বলতা আমেরিকা এবং অন্য অনেক দেশের জন্য উদ্বেগের বিষয়। কারণ, এই দেশগুলো চীনকে মোকাবিলায় ভারতের ওপর ভরসা করেছিল। বহু পশ্চিমা কর্মকর্তার আশঙ্কা, ভারতের আঞ্চলিক কূটনীতি অনেক সময় ‘বুমেরাং’ হয়ে যায় ― উল্টো তাদের নিজস্ব স্বার্থের সঙ্গেই সংঘাত তৈরি করে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে ফিরে আসাও ভারতের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ওয়াশিংটন সফরের অভিজ্ঞতা মোটেও ভালো নয়। সব মিলিয়ে ট্রাম্পকে দেখানোর মতো আঞ্চলিক সাফল্যের কোনো কিছু মোদির ঝুলিতে ছিল না।
নরেন্দ্র মোদি ভারতকে এক উদীয়মান বিশ্বশক্তি ও গ্লোবাল সাউথের নেতা হিসেবে উপস্থাপন করতে চান। অথচ নিজ অঞ্চলেই ভারতের অবস্থান নাজুক। অনেক ভারতীয় বিশ্লেষক অবশ্য এর জন্য ভারতের কঠোর পররাষ্ট্রনীতিকে দায়ী করেছেন।
ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শিবশঙ্কর মেনন বলেছেন, “বিশ্ব দ্রুত বদলে যাচ্ছে, কিন্তু আমরা পুরোনো কৌশলেই আটকে আছি।”

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
সংবাদ প্রতিনিধি

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।