জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর একক অর্জন নয়—এটি ছিল বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও মতের মানুষের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা ও অংশগ্রহণের ফল বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেছেন, কোনো পক্ষকেই জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের একক মালিকানা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনাকে ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক, সাংবিধানিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
আজ সোমবার(১৭ আগস্ট) ঢাকায় কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ আয়োজিত ‘জুলাইয়ের কণ্ঠস্বর: তারুণ্য, প্রত্যয়, প্রতিরোধ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানকে শুধু একটি নির্দিষ্ট আন্দোলন হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত তাৎপর্য বোঝা যাবে না। বিভিন্ন দাবি, প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে শুরু হওয়া একাধিক আন্দোলন একপর্যায়ে বৃহত্তর গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
তিনি বলেন, কেউ চাকরির দাবিতে, কেউ গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে, আবার কেউ অন্যায়ের প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছিলেন। দাবি ও অবস্থানের ভিন্নতা থাকলেও শেষ পর্যন্ত জনগণের আকাঙ্ক্ষার একটি অভিন্ন জায়গা তৈরি হয়েছিল—রাষ্ট্র ও সরকারব্যবস্থা জনগণের জন্য পরিচালিত হবে এবং নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে।
আরও পড়ুনঃ সরকারের প্রথম ১৮০ দিন ছিল পুনর্গঠনের ভিত্তি তৈরির সময়: তথ্যমন্ত্রী
জাতীয় অর্জনের রাজনৈতিক মালিকানা নিয়ে সতর্কবার্তা
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মতো ঐতিহাসিক অর্জনের চেতনাও একসময় রাজনৈতিক মালিকানার মধ্যে চলে গিয়েছিল। এর ফলে একটি জাতীয় অর্জনের চেতনাকে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর একক সম্পত্তি হিসেবে দেখার প্রবণতা তৈরি হয়েছিল।
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের ক্ষেত্রেও যেন একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে কোনো ব্যক্তি বা দলের রাজনৈতিক সম্পত্তিতে পরিণত না করে এর মূল আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের দিকে নজর দিতে হবে।
আরও পড়ুনঃ ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সরকারকে জবাবদিহির মধ্যে রাখার আহ্বান
তরুণদের দায়িত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, শুধু সরকার পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে নাগরিকের দায়িত্ব শেষ হয় না। বরং সরকার গঠনের পর তাকে জবাবদিহির মধ্যে রাখার দায়িত্ব আরও গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে সচেতন ও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু দাবি জানালেই নাগরিকের দায়িত্ব শেষ হয় না। সরকার ও জনপ্রতিনিধিরা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছেন কি না, সেটিও নাগরিকদের পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
কোনো মন্ত্রী, সংসদ সদস্য বা জনপ্রতিনিধি জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করছেন কি না—সে প্রশ্ন করা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা নাগরিকের দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
দলের চেয়ে দেশকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান
রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা গণতান্ত্রিক সমাজে স্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, কেউ একটি রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করতে পারেন, আবার অন্য কেউ অন্য দলকে সমর্থন করতে পারেন। তবে দল বা ব্যক্তির ঊর্ধ্বে দেশ ও রাষ্ট্রের স্বার্থকে স্থান দিতে হবে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, “দল গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দেশ। যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক, সরকারব্যবস্থা যেন সবসময় জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক থাকে—এটাই আমাদের মূল প্রত্যাশা।”
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। বিশেষ অতিথি ছিলেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন।





