বিগত ছয় মাস বা ১৮০ দিনে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও সুসংহত করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আজ দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন, ২০২৫’-এর প্রতিবেদন সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনগণ কতটা সন্তুষ্ট, সেটি জনগণই মূল্যায়ন করবে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা যায়, গত ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র ছয় মাস পার হয়েছে। এই সময়ে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রমের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেশ কিছু প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও কর্মসূচিও জনগণের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত রূপরেখার আলোকে সরকারের প্রথম ১৮০ দিনে একাধিক জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার একাধিক বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখোমুখি হলেও সেগুলো মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ সরকারের প্রথম ১৮০ দিন ছিল পুনর্গঠনের ভিত্তি তৈরির সময়: তথ্যমন্ত্রী
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগ
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও গ্যাসের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলেও সরকার তাৎক্ষণিকভাবে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বোরো মৌসুমে কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে প্রায় এক মাস জ্বালানির মূল্য সমন্বয় স্থগিত রাখা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সহনীয় পর্যায়ে দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সময়ে বিশ্ববাজারসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
দীর্ঘদিনের গ্যাস ও জ্বালানি সংকট রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয় জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ সংকট মোকাবিলায় সরকার দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে।
দেশে বিনিয়োগ বাড়ানো, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং শিল্প উৎপাদন অব্যাহত রাখতে নিরবচ্ছিন্ন প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর পরিদর্শনের পর সেখানে একটি স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যমান ভাসমান এলএনজি টার্মিনালগুলোতে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহে যে বিঘ্ন ঘটে, তা কমাতে একাধিক এফএসআরইউ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের জন্য সম্ভাব্য স্থান নির্ধারণে বর্তমানে জরিপ চলছে।
তিনি আরও জানান, আমদানিনির্ভরতা কমাতে দেশের অভ্যন্তরীণ, অফশোর ও অনশোর এলাকায় নতুন করে গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে আগামী কয়েক বছরে গ্যাস সংকটের একটি টেকসই সমাধান সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একক মালিকানা কেউ দাবি করতে পারবে না: ববি হাজ্জাজ
কৃষি ও সামাজিক নিরাপত্তায় বিভিন্ন পদক্ষেপ
প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত অনুমোদন ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এর পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড দেওয়ার কার্যক্রম চলছে। বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় কর্মকর্তা এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মাসিক সম্মানী দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
দেশের ক্রীড়াবিদ ও সংস্কৃতিবিদদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
খাদ্য মজুদ শক্তিশালী হয়েছে
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ সংক্রান্ত জাতীয় প্রকিউরমেন্ট কমিটির প্রধান হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ও সঠিক নীতির ফলে দেশে খাদ্যের একটি শক্তিশালী ও নিরাপদ মজুদ গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে।
তিনি জানান, সরকারের প্রথম ১৮০ দিনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অর্জন এবং অগ্রগতির সমন্বিত বিবরণী শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং অথবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের মাধ্যমে গণমাধ্যমের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।





