রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়ামের দ্বিতীয় চালান আজ শুক্রবার দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এয়ার কার্গোর মাধ্যমে রাশিয়া থেকে এই জ্বালানি বাংলাদেশে আনা হবে। দেশে পৌঁছানোর পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনুসরণ করে তা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি পর্যায়ক্রমে মোট ৯টি কার্গো বিমানে দেশে আসবে। এর আগে গত মাসে ইউরেনিয়ামের চালান আসার কথা থাকলেও পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় পরিবহন কার্যক্রম পিছিয়ে যায়। পরে বিকল্প রুট হিসেবে চীনের আকাশসীমা ব্যবহার করে জ্বালানি আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এদিকে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের কমিশনিং কার্যক্রমে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ সেফটি ভাল্বের ত্রুটিও সমাধান করা হয়েছে। প্রেসার অপারেটেড রিলিফ ভাল্ব (PORV/POSV)-এর সমস্যা সমাধানের পর বুধবার ১৬ মেগাপাসকেল (MPa) উচ্চচাপে এর পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (NPCBL) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান জানান, আগের রাত থেকে শুরু হওয়া পরীক্ষাটি মেইন কন্ট্রোল রুম (MCR) ও ইমার্জেন্সি কন্ট্রোল রুম (ECR)—দুই জায়গা থেকেই পরিচালনা করা হয়। পরীক্ষার সময় কন্ট্রোল ভাল্বগুলোর কার্যকারিতা যাচাই করা হয়। সেগুলোর কার্যক্রম সন্তোষজনক পাওয়ার পর মেইন সেফটি ভাল্বের (MSV) কার্যক্রম ও প্রতিক্রিয়াও পরীক্ষা করা হয়।
পরীক্ষার সময় ভাল্বের প্রতিক্রিয়া, খোলা ও বন্ধ হওয়ার কার্যক্রম, অ্যালার্ম এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত বিষয় পর্যবেক্ষণ করা হয়। একই সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা, অগ্নিনিরাপত্তা ও বিকিরণ নিরাপত্তাসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থাও যাচাই করা হয়।
পরবর্তী ধাপে প্রায় ১৮ মেগাপাসকেল চাপে আরও একটি পরীক্ষা করার কথা রয়েছে। কমিশনিং দল ধাপে ধাপে প্রতিটি পর্যায় যাচাই করে পরবর্তী কার্যক্রমে এগিয়ে যাচ্ছে।
এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর আগারগাঁওয়ের আইসিটি টাওয়ারে এক সংবাদ সম্মেলনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছিলেন, সেফটি ভাল্বের ত্রুটির কারণে রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর সময় পিছিয়ে যাচ্ছে। তবে তখন ত্রুটি মেরামত বা বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।





