দুবাই ফ্লাইটে হামলায় ইরানের যোগসূত্রের ইঙ্গিত, কঠোর হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

দুবাই ফ্লাইটে হামলায় ইরানের যোগসূত্রের ইঙ্গিত, কঠোর হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী বিমানে হামলার ঘটনায় ইরানের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেছেন, তিনি যে তথ্য পাচ্ছেন তাতে ইরানের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত রয়েছে। তবে এ বিষয়ে তদন্ত এখনো চলমান এবং কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।

ট্রাম্প আরও বলেছেন, হামলার সঙ্গে ইরানের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে তেহরানকে কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে ‘খুব কঠোর’ পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

ঘটনাটি ঘটে বুধবার ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 ফ্লাইটে। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করা বিমানটিতে ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন। উড্ডয়নের প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। অভিযোগ, ওমানি কো-পাইলট ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন এবং বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন।

হামলার সময় বিমানটি অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ১৪ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। আহত ক্যাপ্টেন মচ্ছর ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হলে কয়েকজন যাত্রী ও ক্রু সদস্য সেখানে ঢুকে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে অতিরিক্ত পাইলটদের সহায়তায় বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। যাত্রীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।

ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছর গুরুতর আহত হলেও বিমানটি নিরাপদে অবতরণে ভূমিকা রাখেন। তাঁর সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন ভারত ও ইসরায়েলের নেতারা।

হামলার উদ্দেশ্য ও পেছনের কারণ এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, হামলাকারী ইসলামপন্থী উগ্রবাদী মতাদর্শে প্রভাবিত ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ঘটনার সঙ্গে ইরানের কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, সেটি নিশ্চিত হওয়ার জন্য আরও তদন্ত প্রয়োজন।

এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল-শামসি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তকারীরা হামলার উদ্দেশ্য, পূর্বপরিকল্পনা এবং কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এর যোগসূত্র ছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছেন।

ঘটনার পর ফ্লাইদুবাই ও ইসরায়েলের মধ্যে বিমান চলাচল নিয়েও নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে হামলার সঙ্গে ইরানের সম্পৃক্ততা সম্পর্কে এখনো তদন্তকারীদের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

এর মধ্যেই ইরানকে ঘিরে মার্কিন সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনার সঙ্গে তেহরানের যোগসূত্র প্রমাণিত হলে যুক্তরাষ্ট্র কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটিই নজরে থাকবে। তবে এ মুহূর্তে ইরানের সংশ্লিষ্টতাকে অভিযোগ ও তদন্তের বিষয় হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

দ্য নিউজ ডেস্ক

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।