ঢাকা: মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আবু জাফর মোঃ জাহিদ হোসেনের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)-এর প্রতিনিধি দল। সম্প্রতি ঢাকায় মন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে জাইকা বাংলাদেশ অফিসের চিফ রিপ্রেজেন্টিটিভ তাকাহাশি জুনকো (TAKAHASHI Junko) প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, নারীর অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সামাজিক সুরক্ষামূলক বিভিন্ন যৌথ কার্যক্রম জোরদারের বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়।
বৈঠকের মূল আলোচনাসমূহ
দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্রগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- রোহিঙ্গা সংকটে সহযোগিতা: মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা নাগরিকদের মানবিক সহায়তা প্রদান।
- নারী ও শিশু বিকাশ: নারী শিক্ষা প্রসার, লিঙ্গ সমতা অর্জন, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ এবং কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চায়ন।
- বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু: বিশেষায়িত বিদ্যালয় স্থাপন এবং ফরেনসিক সক্ষমতা বাড়াতে ডিএনএ ল্যাব কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ।
- নারী নেতৃত্ব: অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের পাশাপাশি নীতি-নির্ধারণে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ বৃদ্ধি।
৫০ বছরের উন্নয়ন অংশীদারিত্ব ও তৃণমূল উন্নয়ন পরিকল্পনা
মন্ত্রী শুরুতেই জাপান এবং জাইকাকে বাংলাদেশের অন্যতম পরীক্ষিত বন্ধু হিসেবে আখ্যায়িত করেন। বিগত ৫০ বছর ধরে বাংলাদেশের অবকাঠামোগত ও সামাজিক উন্নয়নে অব্যাহত অংশীদারিত্বের জন্য জাইকাকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তিগত ও উন্নয়নমূলক সহযোগিতা আরও প্রসারের আশা প্রকাশ করেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার নারী ও শিশুসহ সমাজের সব স্তরের মানুষকে সাথে নিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তৃণমূলের নারীদের কর্মদক্ষতা ও জীবনমান উন্নয়নে উপজেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সম্প্রসারণের একটি বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পে জাইকার কারিগরি সহায়তা চাওয়া হলে জাইকার প্রতিনিধি দল ইতিবাচক সাড়া দেয়।
টেকসই সামাজিক বিনিয়োগ: ফ্যামিলি কার্ড ও কেয়ার গিভার খাত
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ সরকারের একটি সিগনেচার প্রজেক্ট।
“ফ্যামিলি কার্ড কোনো সাধারণ সরকারি ব্যয় নয়, বরং এটি একটি কার্যকর ও টেকসই সামাজিক বিনিয়োগ।” — ডা. আবু জাফর মোঃ জাহিদ হোসেন, মন্ত্রী
ফ্যামিলি কার্ড থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে নারীরা পরিবারের জন্য পুষ্টিকর খাদ্য, জরুরি ওষুধ, সন্তানদের পড়াশোনার খরচ এবং ক্ষুদ্র সঞ্চয় করতে পারছেন বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।
পাশাপাশি বিশ্ববাজারে দক্ষ কেয়ার গিভারের (Caregiver) ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা বিবেচনা করে বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক মানের কেয়ার গিভার তৈরির ক্ষেত্রে জাপানের সহায়তা চাওয়া হয়। এছাড়া বাংলাদেশের গ্রামীন নারীদের তৈরি ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প জাপানি বাজারে সহজে রপ্তানির বিষয়েও সার্বিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করা হয়।
জাইকার প্রতিশ্রুতি ও অগ্রগতি পর্যালোচনা
জাইকার প্রধান প্রতিনিধি তাকাহাশি জুনকো বাংলাদেশে সংস্থাটির চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমানে জাইকা যেসকল বিশেষ খাতে কাজ করছে:
- নারী ও শিশুর টেকসই কল্যাণ ও উন্নয়ন।
- কক্সবাজার অঞ্চলের প্রান্তিক জেলেদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও সামাজিক সহায়তা।
- নারীদের কৃষিভিত্তিক আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রদান।
- রোহিঙ্গা ক্যাম্পসমূহে সরাসরি মানবিক সহায়তা প্রদান।
তাকাহাশি জুনকো বাংলাদেশে সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতে বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়নে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব আরও দৃঢ় করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।





