চরম ভোগান্তিতে রাজধানীবাসী

স্টাফ রিপোর্টার: ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলনরত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজধানীর ব্যস্ততম বেশিরভাগ সড়কই অবরোধ করে রেখেছেন। ফলে গতকাল ঢাকাজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। আর এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

সড়ক বন্ধ থাকায় অনেক যাত্রীকে গাড়ি থেকে নেমে হেঁটেই গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হতে দেখা গেছে। শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধের কারণে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।   আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা গতকাল সকাল থেকে উত্তরার আবদুল্লাহপুর, প্রগতি সরণীর মেরুল ও রামপুরা, কাকলীতে বিমানবন্দর সড়ক, মহাখালীতে গুলশানমুখী সড়ক এবং ধানমন্ডির কয়েকটি অংশে রাস্তা আটকে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে। এসব সড়কে দীর্ঘ সময় ধরে যান চলাচল বন্ধ থাকায় আন্দোলনের ধরন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

সকালে আফতাবনগরের ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা রামপুরা ব্রিজ ও মেরুল বাড্ডার মধ্যবর্তী সড়ক অবরোধ করলে প্রগতি সরণী থেকে দুই দিকের সড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুপুরে রামপুরা ব্রিজের দক্ষিণ পাশ থেকে শত শত মানুষকে রিকশা ও ভ্যানে চড়ে এবং পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। নতুন বাজার থেকে গুলিস্তানগামী লেগুনাগুলো বাড্ডা থেকে মেরুল পর্যন্ত এসে অবরোধের কারণে আটকে যায়। সেখানে নেমে নতুন বাহন না পেয়ে বিপাকে পড়েন যাত্রীরা। এই সঙ্কটের মধ্যে রিকশা  মিললেও দুই থেকে তিনগুণ পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন।

প্রবাসী বাংলাদেশি ফজলুর রহমান মালয়েশিয়ার বিমান ধরার জন্য রওনা হয়ে বেলা সাড়ে ১২টায় আটকে ছিলেন রামপুরায়। এরপর পায়ে হেঁটেই রওনা হন। “আমার বাড়ি নোয়াখালী। ঢাকার সব রাস্তা ভালভাবে চিনি না। বিমানবন্দরে কীভাবে পৌঁছাব তা নিয়ে টেনশনে আছি।”কাপড়ের ফেরিওয়ালা মোক্তার হোসেন বাড্ডায় যাওয়ার জন্য বাসে উঠলেও রামপুরায় নেমে যেতে বাধ্য হন। এভাবে রাস্তা আটকে আন্দোলন নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেন তিনি। মেরুল বাড্ডার বাঁশ পট্টি থেকে বাঁশ নিয়ে এ সড়কের মেরুল অংশে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়েছে আন্দোলনকারীরা।

সেখানে কর্তব্যরত এসআই মেহেদী মাকসুদ বলেন, “আমরা সকালে অনুরোধ করেছিলাম সড়ক অবরোধ করে ভোগান্তিতে ফেলবেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে অবস্থান নিন। তবে তারা আমাদের কথা শোনেনি।” অবশ্য ভোগান্তির মধ্যেও ভ্যাটবিরোধী আন্দোলনকে সমর্থন করতে দেখা গেল কয়েকজনকে। মেরুলে শিউলি বেগম নামের এক নারী তার ছেলেকে স্কুল থেকে নিয়ে পায়ে হেঁটেই বাসায় ফিরছিলেন।  তিনি বলেন, “আমাদের সন্তানরাও পড়াশোনা করে, ভোগান্তি হলেও আমি আন্দোলনের পক্ষে। আমি চাই সরকার ভ্যাটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসুক।”

ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়কের দুই মাথায় ডজনখানেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকশ শিক্ষার্থীর অবস্থানের কারণে মিরপুর রোডের কলেজগেইট থেকে আসাদগেইট পর্যন্ত সড়ক এক কথায় স্থবির হয়ে আছে। অনেক চালককে সামনে এগোতে না পেরে গাড়ি ঘুরিয়ে নিতে দেখা গেছে। অসহায় যাত্রীদের অনেকেই বাস থেকে নেমে হেঁটে রওনা হয়েছেন। তেজগাঁও টেকনিকেল কলেজের শিক্ষার্থী জাকির হোসেন কলেজ গেইটে  বলেন, “বৃহস্পতিবারও হেঁটে হেঁটে কলেজে গেছি। হেঁটেই ফিরেছি। আজকেও হেঁটে যেতে হচ্ছে। এভাবে আর কতদিন? যাই হোক, একটা সমাধান দরকার।” গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এক দিকে বিভিন্ন স্থানে প্রচ- যানজট দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে কিছু রাস্তা একেবারে ফাঁকা হয়ে গেছে যানবাহন না থাকায়।

বেলা পৌনে ১২টার দিকে নিউ মার্কেট- নিলক্ষেত মোড় থেকে কাঁটাবন পর্যন্ত সড়ক যানজটে আটকে থাকতে দেখা যায়। ফলে আজিমপুর, পিলখানা ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার কয়েকটি স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ছুটির পর ভোগান্তিতে পড়তে হয়। উত্তরার আবদুল্লাহপুর ও হাউজ বিল্ডিংয়ে শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে টঙ্গীর দিক থেকে গাড়ি আসা বন্ধ। ফলে দুপুরে বিমানবন্দর সড়কে যানবাহন ছিল একেবারেই কম। এই পরিস্থিতিতে বিমানবন্দর, কাউলা এবং খিলক্ষেত বাসস্ট্যান্ডে শত শত মানুষকে যানবাহনের আশায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। এদিকে কাকলী মোড়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেওয়ায় আর্মি স্টেডিয়াম পর্যন্ত এলাকায় থমকে দাঁড়ায় যানবাহন। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মহাখালী ফ্লাইওভার পেরিয়ে ঢাকা সেনানিবাসের জাহাঙ্গীর গেইট পর্যন্ত সড়কে বিভিন্ন যানবাহনকে আটকে থাকতে দেখা যায়।

কাকলী মোড়ে কামাল আতাতুর্ক সড়কের দিকে শ্যামলী বাংলা পরিবহনের একটি বড় বাস এবং ক্যান্টনমেন্ট মিনি সার্ভিসের বাস আড়াআড়ি রেখে রাস্তা অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। একইভাবে বনানী ডিওএইচএসের দিকের রাস্তাও দুটি বাস রেখে আটকে দেওয়া হয়। সাউথ-ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, এআইইউবি, সাউথ এশিয়া, প্রাইম এশিয়া, নর্দান ইউনিভার্সিটি এবং অতীশ দিপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থীকে সেখানে ছোট ছোট জটলা করে ‘নো ভ্যাট’ লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে বসে ‘নো ভ্যাট’, ‘নো ভ্যাট’ স্লোগান দিতে দেখা যায়।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।