কৃষকদের অধিকার সংরক্ষণে সাথে সাথে আমাদের দেশ উন্নত হবে। আমরা শিল্পায়নে যাব, কিন্তু কৃষিকে ত্যাগ করে নয়। কারণ কৃষিই আমাদের বাঁচিয়ে রাখে। কৃষি জমি নষ্ট করে কেউ শিল্প কারখানা গড়ে তুলতে পারবে না। বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কৃষক লীগের জাতীয় সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সারের দাম কমিয়েছে। কৃষকদের ১০ টাকায় অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ সরকার করে দিয়েছে। ১১ বছরে দেয়া হয়েছে ৬৫ হাজার কোটি টাকা ভতুর্কি। আর বিএনপির কাছে সার চেয়ে গুলি খেয়েছিল কৃষকরা।
তিনি বলেন, কৃষির উন্নয়নের মাধ্যমে দেশ খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। বিশ্বব্যাংক কৃষকদের ভর্তুকি দিতে নিষেধ করেছিল। আওয়ামী লীগ সরকার তা স্বত্বেও ভর্তুকি বহাল রেখেছে। অবশ্যই উন্নয়ন হবে। তবে কৃষককে বাদ রেখে নয়।
তিনি আরও বলেন, দেশের কৃষিকাজে, খাদ্যে আরও সমৃদ্ধ করতে কৃষকলীগকে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে।
বর্তমান সরকার কৃষকদের অধিকার গুরুত্ব দিয়েই উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নিচ্ছে বলে জানিয়েছে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমরা শিল্পায়নে যাব, কিন্তু কৃষিকে ত্যাগ করে নয়। কারণ কৃষিই আমাদের বাঁচিয়ে রাখে।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ কৃষি নির্ভর দেশ। এই কৃষি হচ্ছে দেশের প্রাণ। এবং কৃষকরাই দেশকে বাঁচিয়ে রেখেছে। আর এ কৃষক ফসল ফলায় আমরা তা খেয়ে পরে বাঁচি। আর খাদ্য চাহিদা কোনো দিন শেষ হয় না। জনসংখ্যা বাড়বে খাদ্য চাহিদা বাড়বে। কাজেই একটি দেশের জন্য একটি সমাজের জন্য কৃষি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর কৃষকরা যে আগে থেকেই বঞ্চিত ছিল সেটা বঙ্গবন্ধু নিজে দেখেছেন। সে জন্য বঙ্গবন্ধু দেশকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। কৃষক ফসল ফলাতো কিন্ত তার পরনে কাপড় ছিল না, থাকার জায়গা ছিল না। তারা সব সময় বঞ্চিত হতো। আর এ বঞ্চনার হাত থেকে কৃষকদের বাঁচতে কাজ করেছেন বঙ্গুবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষকদের ক্ষতি করে শিল্পায়ন করবে না সরকার। উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করার সময় কৃষকদের বিষয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নেয়া হয়।
তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতায় যখন এসেছি, তখন দেখি কৃষি গবেষণায় একটি টাকা বরাদ্দ নেই। অথচ গবেষণা ছাড়া কৃষির উন্নয়ন সম্ভব না। আমরা এসেই গবেষণা করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। আমরা সরকারে এসেই কৃষিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলাম। কৃষকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছি। আমাদের সরকার কৃষকদের বিনা জামানতে লোন দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে।
কৃষক লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লার সভাপতিত্বে সম্মেলন পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক রেজা। সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, অল ইন্ডিয়া কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অতুল কুমার অঞ্জনসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা।এর আগে বেলা ১১টায় দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং কবুতর উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা। এরপর সেখানে নির্মিত অস্থায়ী মঞ্চে অনুষ্ঠানের প্রথম অধিবেশনে পরিবেশন করা হয় কৃষক লীগের ‘কৃষক বাঁচাও দেশ বাঁচাও’ থিম সং।
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে বহনকারী গাড়ি বহরটি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পৌঁছালে নেতাকর্মীরা তাকে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রী আসায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবাধ প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। উদ্যানে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।



