জেনে নিন বাংলদেশে কবে ঈদুল ফিতর

জেনে নিন বাংলদেশে কবে ঈদুল ফিতর

অমাবস্যায় চাঁদ দেখা যায় না।  তার পরে চাঁদ অগ্রসর হইয়া পরের দিন অর্থাৎ প্রতিপদেও চাঁদকে দেখা যায় না। দ্বিতীয় দিনে দ্বিতীয়া তিথিতে আসিয়া দাঁড়ায় তখন তাহার যে আধ্‌খানায় সূর্য্যের আলো পড়ে,তাহার অতি সামান্য অংশ পৃথিবী হইতে দেখা যায়। ইহাই দ্বিতীয়া তৃতীয়ার চাঁদ। এবছর ১৪২৯ বঙ্গাব্দ গতকাল ১৭ বৈশাখ শনিবার দিবাগত রাত ১টা ৪৫মিনিট পর্যন্ত অমাবস্যা ছিল। তাই এদিনে চাঁদ দেখার কোন সুযোগ নেই। আজ ১৮ বৈশাখ রবিবার প্রতিপদ প্রতিপদ দিবাগত রাত ২টা ৪৬মিনিট পর্যন্ত। এসময়েও চাঁদ দেখা যাবে না তবে শেষ রাতে দেখা যেতে পারে। রবিবার দিবাগত রাত ২টা ৪৬ মিনিট থেকে দ্বিতীয়া তিথি আরম্ভ ১৯ বৈশাখ সোমবার চাঁদ সরু কাস্তের মতো পশ্চিম আকাশের নীচে দেখা যাবে। অর্থাৎ বাংলাদেশে ২০ বৈশাখ ৩ মে মঙ্গলবার মুসলিম পর্ব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হবে।

আমরা জানি, চাঁদের নিজস্ব কোন আলো নেই। চাঁদসহ সৌরজগতের সকল গ্রহ-উপগ্রহ সূর্য থেকে আলো পায়। সূর্য একটি নক্ষত্র। এর নিজস্ব আলো আছে এবং এটি জ্বলন্ত আগুনের গোলক। সূর্যের এই আগুনই মূলত চাঁদ এবং সৌরজগতের সকল গ্রহ-উপগ্রহের আলো ও তাপের উৎস।

সূর্য থেকে চাঁদের দূরত্ব প্রায় ১৫০ মিলিয়ন কিলোমিটার। এত দূর থেকে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় তিন লক্ষ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সূর্য থেকে চাঁদে আসে। মহাকাশচারীরা যখন চাঁদে গিয়েছিলেন, তারা দেখেছেন চাঁদের পৃষ্ট ধূসর রংয়ের ও উঁচু-নিচু। এই পৃষ্ঠ তার উপরে পরা আলোকে প্রতিফলিত করে। সূর্যের যতটা আলো চাঁদের উপরে পরে তার মাত্র শতকরা ১২ ভাগ আলো চাঁদ প্রতিফলিত করতে পারে। সেজন্য সূর্যের আলো যেমন উজ্জ্বল চাঁদেরটা সেরকম উজ্জ্বল নয়। বরং চাঁদের আলো বেশ কোমল ও স্নিগ্ধ। এভাবেই চাঁদ সূর্যের আলোকে পৃথিবীতে পাঠায়।

পৃথিবী যেমন সূর্যের চারিদিকে ঘুরিয়া বেড়ায় তেমনি চাঁদও পৃথিবীর চারিদিকে প্রায় গোলাকার পথে ঘুরিয়া বেড়ায়। যখন চাঁদ পৃথিবী ও সূর্য্যের মাঝে পড়িবে তখন চাঁদের যে পিঠে সূর্য্যের আলো পড়ে তাহাকে পৃথিবী হইত দেখা যায় না। পৃথিবী হইতে উহার অন্ধকার দিক্‌টাই দেখা যায়। এ অবস্থায় আমরা চাঁদকে একেবারে দেখিতে পাই না। ইহাই অমাবস্যা। অমাবস্যায় চাঁদ দেখা যায় না।  তার পরে চাঁদ অগ্রসর হইয়া পরের দিন অর্থাৎ প্রতিপদেও চাঁদকে দেখা যায় না। দ্বিতীয় দিনে দ্বিতীয়া তিথিতে আসিয়া দাঁড়ায় তখন তাহার যে আধ্‌খানায় সূর্য্যের আলো পড়ে,তাহার অতি সামান্য অংশ পৃথিবী হইতে দেখা যায়। ইহাই দ্বিতীয়া তৃতীয়ার চাঁদ। ইহার আকৃতি তথন সরু কাস্তের মতো পশ্চিম আকাশের নীচে দেখা যায়। তাই অমাবস্যার পরে দ্বিতীয়া তিথিতে চাঁদ দেখা যায়।

তারপরে সে দিনে দিনে বাড়িয়া পূর্ণিমার দিন ঠিক্ গোল হইয়া দাঁড়ায়। ইহার পরেই কৃষ্ণপক্ষ আরম্ভ হয়। কৃষ্ণপক্ষের প্রতিপদ হইতে চাঁদ একএকটু করিয়া দিনে দিনে ক্ষয় পাইতে সুরু করে। প্রায় পনেরো দিন পরে অর্থাৎ অমাবস্যায়, চাঁদকে আর খুঁজিয়াই পাওয়া যায় না।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Brinda Chowdhury
সংবাদ প্রতিনিধি

Brinda Chowdhury

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।