বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক সমাজ গঠনে লালন সাঁইয়ের মানবতাবাদী দর্শন অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলালউদ্দীন।
তিনি বলেছেন, লালন সাঁইকে শুধু একজন সুরকার বা সংগীতশিল্পী হিসেবে বিবেচনা করলে তাঁর চিন্তা ও দর্শনের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন হয় না। তিনি ছিলেন মানবতাবাদী চেতনার অন্যতম উজ্জ্বল প্রতীক। ধর্ম, বর্ণ কিংবা জাতিগত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে তাঁর গান ও দর্শনে মানুষের মর্যাদা ও মানবতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির অনিরুদ্ধ মুক্তমঞ্চে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবসের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
মীর মোহাম্মদ হেলালউদ্দীন বলেন, লালন সাঁইয়ের অসাম্প্রদায়িক চিন্তা ও মূল্যবোধ নিজেদের জীবনে ধারণ করতে পারলে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। সমাজে বিভেদ ভুলে প্রত্যেক মানুষকে মানবিক মর্যাদা দেওয়া এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখা জরুরি। বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের মূল ভিত্তি হলো এই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি।
লালনের সাম্য ও ঐক্যের দর্শন রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারণা ধর্ম, বর্ণ ও পরিচয়ের পার্থক্য অতিক্রম করে দেশের মানুষকে একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পথ দেখিয়েছে। নিজস্ব স্বকীয়তা বজায় রেখেও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে এ ধারণার মাধ্যমে।
বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের কথা তুলে ধরে মীর হেলাল বলেন, তিন পার্বত্য জেলাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের জীবনযাপন, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে রয়েছে বৈচিত্র্য। এই ভিন্নতাই বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে।
তিনি বলেন, রংধনুর সাতটি রং যেমন একসঙ্গে মিলে অপূর্ব সৌন্দর্য সৃষ্টি করে, তেমনি বিভিন্ন ধর্ম, সংস্কৃতি ও সম্প্রদায়ের মানুষ পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতির ভিত্তিতে কাজ করলে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়সল আহমেদ, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চাইলাউ মারমা এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) কেন্দ্রীয় নেতারা।
অনুষ্ঠানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, লালনভক্ত, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।





