এইচ-১বি ভিসায় বড় ধাক্কা? যুক্তরাষ্ট্রে তিন বছর নতুন ভিসা স্থগিতের বিল, কী পরিবর্তন আসতে পারে

এইচ-১বি ভিসায় বড় ধাক্কা? যুক্তরাষ্ট্রে তিন বছর নতুন ভিসা স্থগিতের বিল, কী পরিবর্তন আসতে পারে
এইচ-১বি ভিসায় বড় ধাক্কা

বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বহুল ব্যবহৃত এইচ-১বি (H-1B) ভিসা কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব উঠেছে। রিপাবলিকান সিনেটর টিম শিহি সিনেটে ‘End H-1B Abuse Act’ নামে একটি বিল উত্থাপন করেছেন, যা প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। এইচ-১বি ভিসায় বড় ধাক্কা

প্রস্তাবিত বিলে আগামী তিন বছরের জন্য নতুন এইচ-১বি ভিসা ইস্যু স্থগিত রাখার কথা বলা হয়েছে। একই সময়ে কর্মসূচিটি পুনর্মূল্যায়ন করে ভবিষ্যতে আরও কঠোর শর্তে চালুর সুপারিশও রাখা হয়েছে।

কেন এই বিল?

বিলের সমর্থকদের দাবি, এইচ-১বি কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ জনবলের ঘাটতি পূরণ করা। তবে তাদের অভিযোগ, অনেক প্রতিষ্ঠান তুলনামূলক কম ব্যয়ে বিদেশি কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে স্থানীয় চাকরিপ্রার্থীদের সুযোগ কমিয়ে দিচ্ছে।

সিনেটর টিম শিহির মতে, প্রস্তাবিত আইনের লক্ষ্য হলো কর্মসূচির অপব্যবহার রোধ করা এবং মার্কিন কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো

বিলে এইচ-১বি কর্মসূচিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • আগামী তিন বছর নতুন এইচ-১বি ভিসা ইস্যু স্থগিত রাখা।
  • প্রতিটি এইচ-১বি আবেদনের জন্য $100,000 ফি বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব।
  • বর্তমান লটারি পদ্ধতির পরিবর্তে বেতনভিত্তিক নির্বাচন ব্যবস্থা চালু করা।
  • তৃতীয় পক্ষের স্টাফিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগে কড়াকড়ি।
  • একাধিক প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ সীমিত করা।
  • গ্রিন কার্ড আবেদনের বর্তমান সুবিধায় পরিবর্তন বা সীমাবদ্ধতা আনা।
  • এইচ-১বি ভিসাধারীদের পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে আনার সুযোগ সীমিত করার প্রস্তাব।

বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপরও প্রভাব

প্রস্তাবিত বিল শুধু কর্মী ভিসাতেই সীমাবদ্ধ নয়। এতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চালু থাকা Optional Practical Training (OPT) কর্মসূচি বাতিলের প্রস্তাবও রয়েছে।

এছাড়া নির্দিষ্ট এক্সচেঞ্জ ভিসাধারীদের কাজের অনুমতি প্রত্যাহার এবং ফেডারেল সরকারি সংস্থাগুলোতে অ-অভিবাসী ভিসাধারীদের নিয়োগে নিষেধাজ্ঞার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এখন কী হবে?

তবে এসব পরিবর্তন এখনই কার্যকর হচ্ছে না। বিলটি আইনে পরিণত হতে হলে প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে পাস হতে হবে। এরপর প্রতিনিধি পরিষদের অনুমোদন এবং সবশেষে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর প্রয়োজন হবে। এর আগে প্রস্তাবিত বিধানগুলো কার্যকর হবে না।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
সংবাদ প্রতিনিধি

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।