আফগান কণ্যা ইয়াসমিন আলীর ইসলাম ত্যাগ করার নেপথ্যে

আফগান কণ্যা ইয়াসমিন আলীর ইসলাম ত্যাগ করার নেপথ্যে

আফগানিস্তানের কাবুলের একটি তালেবান নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ইয়াসমিন আলী ১৯৯৩ সালের ১ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। খুব কঠোর পরিবেশে ও গোঁড়া ইসলামী মৌলবাদী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ইয়াসমিনা। অল্প বয়সেই ইয়াসমিনা তালিবানদের সন্ত্রাস দেখেছিলেন। তালেবানদের অত্যাচারের কারণে ইয়াসমিনের বয়স যখন সাত বছর তখন তার পরিবারের সাথে ইংল্যান্ডে পালিয়ে যান।

তিনি দেখেছেন, তালেবানদের নিয়ন্ত্রাধীন এলাকায় পুরুষ ছাড়া কোনও নারীকে ঘর থেকে বের হতে দেওয়া হত না। নারীদের সর্বদা রাখা হত পর্দার আড়ালে। এছাড়াও দেখেছেন ধর্ম না মানতে চাওয়া সাধারণ মানুষদের ওপর বর্বর অত্যাচার। একই সঙ্গে ঠিকমতো পোশাক না পরলেও নারী-পুরুষ উভয়কেই চরম নির্যাতন করা হত।

ইংল্যান্ডে আসার পর ইয়াসমিনার পরিচয় বদলে যায়। এখানেই তিনি পড়তে শিখেছেন। কিন্তু স্কুলে স্কার্ফ পরে আসায় অন্যান্য শিশুরা তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হতে শুরু করে। তারা জানতে চেয়েছিল- কেন এই স্কার্ফ, এর অর্থ কী? লেখা-পড়ায় খুব ভালো হওয়ার কারণে ইয়াসমিান তাঁর স্কুলের শিক্ষকদের মধ্যেও বেশ প্রিয় হয়ে ওঠেন। তখন আমি স্কুলে যাই এবং সেখানে আমাকে যৌন শিক্ষা দেওয়া হয়।”

ইংল্যাণ্ডে গিয়েও তার বাবা-মা তাকে একজন কঠোর মুসলিম হিসেবে গড়ে তোলেন,ইয়াসমিনার বয়স যখন ১৯, তখন পরিবারের সদস্যরা তাঁর মতামতের তোয়াক্কা না করেই বিয়ে ঠিক করে ফেলেন। এই সময়েই ইয়াসমিনা বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যান ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরিবারের লোকেরা যখন তাঁর জীবনের ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করার প্রয়োজন বুঝতে পারেননি, তখনই তিনি তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিন্ন করেছিলেন।  পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেই ইসলাম ধর্মও ত্যাগ করে ইহুদি ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন ইয়াসমিনা, তার পর আর পিছনে ফিরে তাকাননি।

আলী তার ক্যারিয়ার শুরু করেন যখন তিনি পর্নোগ্রাফিক পরিচালক ডেভিড কোহেনের সাথে দেখা করেন, যাকে তিনি পরে বিয়ে করেন। কর্মজীবন শুরু প্রসঙ্গে ইয়াসমিনা আলি বলেন, “জীবনে প্রথমবার সেক্স করার পরই আমি সেক্সের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছিলাম এবং আমি ধীরে ধীরে পর্নোগ্রাফিক ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলাম এবং এখনও অনেক পর্নো কোম্পানির ফিল্ম করছি,” সে দাবি করেন তিনি।

দুজন আগে অস্ট্রিয়াতে থাকতেন এবং ২০১৭ সালে স্লোভাকিয়ায় চলে আসেন। আলী ২০২০ সালে একটি ফৌজদারি মামলায় জড়িয়ে পড়েন যখন তার বাবা এবং তার চাচাত ভাই তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করার জন্য গ্রেফতার করা হয়েছিল কারণ সে ইসলাম ত্যাগ করেছিল এবং তার পছন্দের পেশা নিয়ে “পরিবারের অসম্মান” করেছিল। ব্রিটিশ ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি জানিয়েছে যে দুইজন তার সন্ধানের জন্য ২০১৮ সালে স্লোভাকিয়ায় বেশ কয়েকটি ভ্রমণ করেছিল এবং একজন হিটম্যানকে অনেক ডলারের বিনিময়ে তাকে হত্যা করার প্রস্তাব দেয়।

আলি এখন নারীদের অধিকারের পক্ষে ওকালতি করেন এবং “ইসলামের দ্বারা এই অধিকার লঙ্ঘনের প্রতি অন্ধ দৃষ্টিপাতকারী উদারপন্থী কর্মীদের নিন্দা করেন”।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Brinda Chowdhury
লেখক / প্রতিবেদক

Brinda Chowdhury

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।