আর্তনাদ-আতংকে ঈদ কেটেছে মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে ফেরা গোলাপগঞ্জের মিশুর

জাহিদ উদ্দিন, গোলাপগঞ্জ: ঈদ সবার জন্য আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে। সবার মত ঈদ আনন্দে কাটার কথা ছিলো মিশুর। কিন্তু একটি দুর্ঘটনাই তার সব আনন্দ বেদনায় পরিবর্তন করে দিল। এবারের ঈদে তার ছিল আনন্দের বদলে যন্ত্রণা। বিছানায় কাতরাতে কাতরাতে আর্তনাদের মধ্য দিয়েই কেটেছে ঈদের দিনও। ট্যাম্পাকো ফয়েলস কারখানার বয়লার বিস্ফোরণে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে মৃত্যুর মিছিল থেকে বেঁচে ফেরা মিশু জেন নতুন জীবন পেয়েছে।
গোলাপগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের চৌঘরী গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে আব্দুল মুমিন মিশু। গত ১০ সেপ্টেম্বর শনিবার ভোরের সেই বিভিষিকাময় মুহূর্ত মনে হলেই এখনো আঁতকে ওঠেন তিনি।আগুনে সহকর্মীদের ঝলসে যাওয়া মুখ, সহকর্মীদের একের পর এক লাশের মিছিল এখনো চুখের মধ্যে ভেসে ওঠে। বাঁচাও বাঁচাও বলে তাদের  আত্মচিৎকার মিশুর কানে এখনো ভেসে ওঠে।তার সারা গায়ে বিষম ব্যথা।বিছানা থেকে ওঠতে হলেও অন্য কারো সাহায্য নিতে হয়।তারপরও তার  এ বেঁচে ফেরা তার পরিবারের জন্য আল্লাহ তা’লার পক্ষ থেকে ঈদ উপহার।
বিভিষিকাময় সেদিনের কথা বলতে গিয়ে এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে মিশু বলেন, তখন মনে হয়েছিলো কিয়ামত শুরু হয়ে গেছে।চারিদিক ধুয়ায় অন্ধকার।   আমি ভিতরে এখনো প্রবেশ করিনি।আমি ফটকের অনেকটা কাছে ছিলাম।হঠাৎ করে প্রচন্ড শব্দ শুনতে পাই। এরপর ঝড়ের বেগে ভবনের ইট সুরকি চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে।আমার মাথা পায়ে ভবনের কয়েক টুকরো ইট পড়ে। চারিদিকে শুধু চিৎকার আর হৈচৈ। এসবের মধ্যে আমি কখন দাড়ানো অবস্থা থেকে পড়ে যাই বুঝতে পারিনি। নাক, মুখ ফেটে রক্ত ঝরছে। শরীর টেলে কোনমতে ফটকের বাইরে বের হই। তারপর আর কিছু মনে নেই। চোখ মেলে দেখি আমি হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছি।
আমার অনেক সহকর্মী আজ বেঁচে নেই। তাদের পরিবার- পরিজন কি অবস্থায় ঈদ কাটিয়েছে তা কেউ অনুমান করতে পারবে না।
মিশুর বাবা আব্দুল হান্নান বলেন,আমার ছেলে আমার কাছে
ফিরে এসেছে এর জন্য মহান আল্লাহ পাকের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।মিশু যেন তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে এর জন্য দেশবাসী সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
সংবাদ প্রতিনিধি

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।