অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ না বাড়লে বিদেশি বিনিয়োগ হবে না

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ব্যক্তিখাতে অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ না বাড়লে দেশে বিদেশি বিনিয়োগ হবে না।

কারন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দেশীয় বিনিয়োগের অবস্থা বিবেচনা করে বিনিয়োগে আগ্রহী হন। বাংলাদেশে এখন বিনিয়োগের জন্য শ্রেষ্ঠ সময়। অনেকেই বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করলে তার লক্ষ্য অর্জন হচ্ছে না।

বুধবার বিকেলে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ সফররত যুক্তরাষ্ট্রের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও প্রেসিডেন্ট ফ্রেড পি. হকবার্গ বৈঠক করেন। এ বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী উপস্থিত সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। এ সময় ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেন ব্লুম বার্নিকাট উপস্থিত ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, ফ্রেড পি. হকবার্গ ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশে অবস্থান করবেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলবেন। এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স এর আয়োজনে মধ্যাহ্নভোজে বক্তব্য রাখবেন।

এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যান হকবার্গ নবায়নযোগ্য জ্বালানি, নির্মাণ সরঞ্জামাদি, চিকিৎসা, প্রযুক্তি এবং উড্ডয়ন সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানিকারকদের উপস্থিতি বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছেন।

বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে বলেই এখন বিদেশী বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করছে। এটা নতুন কিছু নয়, সুযোগ থাকলে বিনিয়োগকারীরা এদেশে আসবেই। সে আমেরিকা হোক আর চীন হোক। কিন্তু কথা হচ্ছে অনেকেই বিনিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করছে ঠিকই তবে পওে আর তাদের দেখা যায় না। এ কারণেই আমি সব সময় অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগের ওপর জোর দিয়ে আসছি।

সুনির্দিষ্ট কোন কোন খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগের জন্য তারা সুনির্দিষ্ট কোন খাতের কথা বলেনি। তবে বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগের কথা বলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীরা কি বড় কোন বিশেষ খাতে বিনিয়োগ করতে চায়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এমন কোন কথা তাদের সঙ্গে হয়নি। মূলত এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যান দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে এসেছেন। এরই অংশ হিসেবে তিনি বাংলাদেশেও সফরে এসেছেন।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে সফর করতে এসে যারাই আমার সঙ্গে দেখা করতে আসেন, তাদের সবার কাছেই জিএসপি না দেওয়ার কারন জানতে চাই। তার সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা হয়েছে।

ফ্রেড পি.হকবার্গ বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত বাড়ছে। এখানে বিনিয়োগের প্রচুর সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ, পরিবহন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগের প্রচুর সুযোগ রয়েছে। আর এসব ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সুনাম বিশ্ব জুড়ে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
সংবাদ প্রতিনিধি

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।